অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এর মাধ্যমে রাজ্যে টানা ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলো। ফলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে পদত্যাগ না করার বিষয়ে অনড় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারালেন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পরই বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে এ সম্পর্কিত একটি চিঠি প্রকাশ করে বলা হয়, “ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার (খ) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।”
সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে বিধানসভা আপনা থেকেই বিলুপ্ত হয়। নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
কিন্তু এই ক্ষেত্রে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধ এবং পদত্যাগ না করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার একগুঁয়েমির কারণে তাকে তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে থাকতে দেওয়া উচিত কিনা তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা মমতাকে সরাসরি বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্যপালের বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ হল সরকার আর নেই। পদত্যাগ না করলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং তার মন্ত্রিসভা এখন ‘সাবেক’। তবে মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল। আবার তাকে নতুন সরকারের শপথ নেওয়া পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেননি।
নির্বাচনে বিজেপির জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে কয়েক দিন ধরেই পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, ইভিএম কারচুপি এবং ভোট লুটের মাধ্যমে বিজেপি এই জয় পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তত ১০০টি আসনে ভোট লুট করা হয়েছে, যেখানে তাদের প্রার্থীরা গণনার শুরু থেকে এগিয়ে ছিলেন।
ভারত সরকারের সাবেক সচিব জহর সরকার জানিয়েছেন, গতকালই রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল অন্তর্বর্তীকালীনভাবে রাজ্যের দায়িত্ব সামলাবেন।
এদিকে বিজেপি এখনও তাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। শুক্রবার দুপুর ২টায় দলটির নবনির্বাচিত বিধায়করা বৈঠকে বসে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে উত্তেজনা ও নাটকীয়তা চলছে। শান্তি বজায় রাখতে প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বিভিন্ন জেলায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মধ্যম গ্রামে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথকে।