শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের জন্য ভিসানীতি আরও কড়াকড়ি করছে অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও স্বল্প দক্ষ কর্মীদের ওপর ভিসানীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী দুই বছরের মধ্যে অভিবাসী সংখ্যা কমিয়ে আনতে সোমবার এমন ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

নতুন নীতির অনুযায়ী- একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে ইংরেজি পরিক্ষা (আইএলটিএস) বর্তমানের তুলনায় আরও অধিক রেটিং অর্জন করতে হবে। এছাড়া প্রথমবার আবেদন বাতিল হলে দ্বিতীয়বার আবেদন করলে তার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে অধিক সময়ক্ষেপণ হবে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

অন্যদিকে উচ্চ দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি নতুন বিশেষজ্ঞ ভিসা চালু করা হবে, যা প্রক্রিয়াকরণের সময় লাগবে মাত্র এক সপ্তাহ। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়িরা সহজেই দক্ষ অভিবাসীদের নিয়োগ করতে পারবেন। যা অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নেইল বলেছেন, ‘এই কৌশল আমাদের দেশে অভিবাসী গ্রহণের পরিমাণকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নামিয়ে আনবে। এটি কেবল অভিবাসীর সংখ্যা, নির্দিষ্ট কোনো সময় বা আমাদের দেশে বর্তমানে অভিবাসীদের কারণে যে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার বিষয় না, এটা অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যতের প্রশ্ন।’

এর আগে চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীদের সংখ্যাকে সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে হবে। দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারীর সময় কঠোর সীমান্ত নীতিতে প্রায় দুই বছর বিদেশী ছাত্র এবং কর্মীদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এতে দেশটি অভিবাসী কর্মীদের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। ঘাটতি পূরণে গত বছর তার বার্ষিক অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ানো জন্য ভিসানীতি শিথিল করে দেশটির সরকার। কিন্তু হঠাৎ করে অধিক সংখ্যায় বিদেশী কর্মী ও শিক্ষর্থীদের আগমনে দেশটিতে গৃহহীনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সোমবার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড সংবাদপত্রের করা একটি সমীক্ষা বলেছে, ৬২ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান মনে করেন, দেশে অভিবাসীদের সংখ্যা খুব বেশি।

অস্টেলিয়ান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় মোট অভিবাসী প্রবেশ করেছে ৫ লাখ ১০ হাজার। তবে নতুন ভিসা নীতিতে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় এক-চতুর্থাংশে নেমে যাবে, যা করোনা মহামারির ঠিক আগের সময়ের কাছাকাছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *