বিশেষ ট্রেনে ঢাকার পথে কোরবানির গরু

সারাবাংলা

অনলাইন ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতি আর কম খরচে পশু পরিবহনে ২০২১ সাল থেকে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার জামালপুর থেকে তিনটি ট্রেনের ৭৫টি ওয়াগনে এক হাজার ২০০টি গরু নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। এর মধ্যে দুটি ট্রেন শুক্রবার আর শেষ ট্রেনটি যাবে শনিবার বিকেলে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টার দিকে জামালপুরের ইসলামপুর বাজার স্টেশন থেকে ২৫টি ওয়াগনে ৪০০ গরু নিয়ে প্রথম ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রেনে কোরবানি গরু পরিবহনে খরচ কমার পাশাপাশি এড়ানো যাবে যানজটের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

গরু ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, ‘আমি প্রতিবছরই গরু নিয়ে যাই। আল্লাহর রহমতে সব গরু বিক্রি হয়ে যায়। এবারও ৮টা গরু নিয়ে যাইতাছি। আল্লাহ রহম করলে এবারো সব গরু বিক্রি হয়ে যাবো। জামালপুরের চেয়ে ঢাকাতে গরুর দাম ভালো পাওয়া যায়। প্রতি গরুতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি পাওয়া যায়। তাই আমরা গরু কষ্ট করে ঢাকা নিয়ে যাই।’

খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাকে গরু নিয়ে গেলে ভাড়া বেশি লাগে। ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার শঙ্কা তো আছেই। এছাড়াও ঘাটে ঘাটে চাঁদা দেওয়া লাগতো। ট্রেনে গরু নিয়ে গেলে এসব ঝামেলা নাই। নিরাপত্তা আছে। আমরাও শান্তিতে নিয়ে যাই।

গরু ব্যবসায়ী জাবের আহাম্মেদ বলেন, এক ট্রাক গরু নিয়ে গেলে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ট্রাকে ১৫-২০ টা গরু নেওয়া যায়। এই জায়গায় ১৬টি গরু নিয়ে গেলে ৮০০০ টাকা খরচ হয়। এক গরু মাত্র ৫০০ টাকা। তাই ট্রেনে গরু নেওয়ার এতো চাপ।

এদিকে অবিক্রিত গরু নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরার জন্য ফিরতি ট্রেনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

গরু ব্যবসায়ী সেলিম মণ্ডল বলেন, ‘ঢাকাতে সব গরু সবসময় বিক্রি হয় না। তখন কোরবানির আগের রাতে কম দামে গরু বিক্রি করা লাগে। এতে লস হয়। যদি সরকার ফিরতি একটা ট্রেন দিতো, তাহলে কম দামে গরু বিক্রি করা লাগতো না। ফেরত আনা যাইতো।

জামালপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়াগনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা। প্রতিটি ওয়াগনে নেওয়া যাবে ১৬টি গরু। আর সুবিধা বেশি পাওয়ায় গরু পরিবহনে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে।

ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহিন মিয়া বলেন, ‘ট্রেনে গরু নেয়ার জন্য খামার ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ট্রেন আসার খবরেই সব ওয়াগন বুক হয়ে গেছে। যদি আরও ট্রেন দেওয়া হতো তাহলে সেসব ট্রেনও বুক হয়ে যেতো। এই বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাবো। যেন পরের বার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *