কানায় কানায় পূর্ণ বিশ্ব ইজতেমা ময়দান, কাল আখেরি মোনাজাত

হাইলাইটস

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে ময়দান। জায়গা না পেয়ে অনেকেই ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও তুরাগ নদীর তীরে অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার ফজর নামাজের পর আমবয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় প্রথম পর্ব।

সরেজমিনে ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা যায়, দেশের নানা প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিরা নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। অনেক মুসল্লি ময়দানে ও খিত্তায় জায়গা না পেয়ে সড়ক, ফুটপাত ও অলিগলিতে শামিয়ানা নির্মাণ করেছেন। এর ফলে একদিকে ওই স্থানে যানবাহন চলাচল অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে এসব স্থানে অবস্থান নেওয়া মুসল্লিরা রান্নাবান্না, খাবার পানি, ওজুর পানিসহ বিভিন্ন দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই ওজু করতে এক বদনা পানি কিনছেন ১০ টাকা দিয়ে। এছাড়াও নিজস্ব খরচে ছাউনি ও শামিয়ানা নির্মাণের জন্য বাঁশ-কাগজ কিনতে দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ দাম। রয়েছে রান্না ও খাবার পানির সংকট।

এদিকে গত শুক্রবার দেশের বৃহত্তম জুমার নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে টঙ্গীর তুরাগ তীরে। ১৬০ একরের এ ময়দান দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিতে ভরপুর ছিল। ওইদিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় জুমার নামাজের জামাত। এ সময় ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের পাশাপাশি নামাজে অংশ নেওয়া লাখো মুসল্লির আগমনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, উত্তরা কামারপাড়া সড়ক, সিলেট মহাসড়ক ও উড়ালসড়কের দীর্ঘ অংশে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ওই সড়কগুলোতে দীর্ঘসময় যানবাহন চলাচল বিরতি দেন পরিবহন চালকরা। পরে নামাজ শেষে ধীরে ধীরে মহাসড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পঞ্চগড় থেকে আসা ইসমাইল মিয়া, সোবাহান মুন্সি ঢাকাটাইমসকে বলেন, আল্লাহর কাজে আসছি, কষ্ট হলেও এটা অনেক শান্তির। এখানে জিনিসপত্রের দাম বেশি, ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছি, খাবার পানির পাশাপাশি ওজুর পানিও কিনতে হচ্ছে। তবুও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই কষ্টকে কষ্ট মনে করি না।

ঝিনাইদহ থেকে আসা মাওলানা সোলাইমান, ওয়াদুদ মিয়া জানান, ‘প্রথম দিনে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি হইছে। থাকার জায়গা, রান্না খাওয়ার জায়গা ভিজে গেছে। তবুও আল্লাহর ইবাদতে এসে ভালো লাগছে।’

এদিকে আগামীকাল রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। সেই উপলক্ষে মোনাজাতে অংশ নিতে ইতোমধ্যে নতুন করে মুসল্লিদের আগমন ঘটছে তুরাগ তীরে। ইজতেমা আয়োজকরা ধারণা করছেন সব কিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল আখেরি মোনাজাতে অংশ নেবেন ৫০ লাখ মুসল্লি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই দেশ ও দেশের বাইরে থেকে মুসল্লিরা এসে উপস্থিত হন তুরাগ তীরে। অবস্থান নেন নিজ নিজ খিত্তায়। অনেকেই নদীপথেও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এসে অংশ নেন ইজতেমায়।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহাবুব আলম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমাকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ময়দানে পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা। এদিকে মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে ট্রাফিক বিভাগও প্রস্তুত রয়েছে। আকাশ পথে হেলিকপ্টার ও পুরো ইজতেমা এলাকায় অত্যাধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *