বিচ্ছিন্নভাবে নয়, রেস্তোরাঁয় অভিযান হবে তদারকি দপ্তর গুলোর সমন্বয়ে

হাইলাইটস

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর আবাসিক ভবনগুলোতে থাকা রেস্তোরাঁগুলোয় এখন থেকে আর খাদ্যের মান তদারকিতে পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করবে না তদারকি দপ্তর ও সংস্থাগুলো। সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ‘আবাসিক ভবনে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিযান পরিচালনাকারী দপ্তর/সংস্থা কর্তৃক পৃথকভাবে অভিযান না করে সম্মিলিতভাবে অভিযান পরিচালনার’ লক্ষ্যে এ সভা হয়।

তবে শুধুমাত্র রেস্তোরাঁয় খাদ্যের মান ও নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে সমন্বিতভাবে তদারকি করবে সংস্থাগুলো। এর বাইরে আবাসিক ভবনে রেস্তোরাঁ তৈরির অনুমোদন, লাইসেন্স প্রদান বা অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ কি না সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের মতোই অভিযান পরিচালনা করবে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি বেইলি রোডে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির পর সরকারি বিভিন্ন তদারকি সংস্থা মাঠে কাজ করছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সভা হয়। সেই সভায় আবাসিক ভবনে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অভিযান পরিচালনাকারী দপ্তর বা সংস্থা কর্তৃক পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা না করে সম্মিলিতভাবে অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকরে পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি সভা করে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেই সভায় ছয়টি কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে বলে জানান ভোক্তার ডিজি। সেগুলো হলো- প্রথমত, প্রত্যেক দপ্তর বা সংস্থার অভিযানের পর অভিযানের স্থান, তারিখ ও ফলাফল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আপলোড করতে হবে। অভিযান পরিচালনাকারী দপ্তর বা সংস্থার ফোকাল পয়েন্টদের নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে হবে। উপপরিচালকের নিচে নয়, এমন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থা ফোকাল পয়েন্টের নাম জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠাবে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন হবেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বা সংস্থার মহাপরিচালক বা প্রধানদের একই গ্রুপে সংযুক্ত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অভিযান পরিচালনাকারী দপ্তর বা সংস্থা নিজেদের অভিযান পরিচালনা কার্যক্রমের একটি চেকলিস্ট তৈরি করে নিজেদের মধ্যে শেয়ার করবেন এবং নিজ নিজ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন।

তৃতীয়ত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা এবং রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে সময়ে সময়ে সভা করে কমপ্লায়েন্স বিষয়ে রেস্তোরাঁ মালিকদের ধারণা দেবেন।

চতুর্থত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে রেস্তোরাঁর তালিকা সরবরাহ করবে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং ট্রেড লাইসেন্সের তালিকা সরবরাহ করবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

পঞ্চমত, অভিযানে শিক্ষামূলক এবং অনুপ্রেরণামূলক লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

ষষ্ঠত, রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা সমন্বয়ের জন্য দুই মাস পরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব পর্যায়ে সভা করতে হবে।

এ সময় সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার বিভাগ) ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আবু ইউসুফ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. নিয়াজ আলী চিশতি, ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আঁখি শেখ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান, বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক মো. রিয়াজুল হক, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি ড. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *