ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আন্তর্জাতিক হাইলাইটস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শনিবার মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা করেছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে থাকা ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের নজরদারি স্থাপনায় এই হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ড্রোনগুলো এই অঞ্চলের জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন হতো। ইরান এখন প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

দুই দেশ যুদ্ধ থামাতে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরান চায় তার তেল রপ্তানির বিপরীতে জমে থাকা কোটি কোটি ডলার ফেরত দেওয়া হোক। পাশাপাশি ইরান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বন্দর অবরোধ শেষ করা এবং প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে দেশে চাপের মুখে পড়েছেন। তিনি এনবিসিকে বলেছেন, ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ইরানের হাতে এখনো কিছু সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কাছে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোন আছে। আমি বলব, হিসাবের দিক দিয়ে হয়তো তাদের ২১-২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো অবশিষ্ট। এটা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ঠিকই, কিন্তু যখন আমরা প্রথম হামলা করেছিলাম তখন যা ছিল তার চেয়ে অনেক কম।’

ইরানের নেতারা কেন চুক্তিতে আসতে দেরি করছেন, এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কারণ তারা শক্তিশালী। তাদেরকে এখন এমন কিছু করতে হবে, যা তারা কখনো ভাবেনি। তবে তারা এখন নিরুপায়। আর এটা হতে একটু সময় নেবেই।’

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে। এরপর এপ্রিলের শুরুতে এই যুদ্ধে বিরতি দেয় দুই পক্ষ। তবে সম্প্রতি দুই পক্ষ আবারও একে অন্যের স্থাপনায় হামলা শুরু করেছে। যা পরোক্ষ আলোচনা চলাকালেই আরও বড় পরিসরে যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *