আগামীতে আপনারাই হচ্ছেন দেশের কান্ডারি, ক্যাডেটদের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

পরিবেশ ও প্রকৃতি সারাবাংলা

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: সম্পন্ন হলো চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ৪২তম ব্যাচের ক্যাডেটদের পাসিং আউট প্যারেড। সেখানে উপস্থিত হয়ে ক্যাডেটদের উদ্দেশে মৎস্য ও প্রণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বললেন, ‘আগামীতে আপনারাই হচ্ছেন দেশের কান্ডারি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনাদের শপথ গ্রহণকালে জাতির পিতার ভাষণ চালানো হয়েছে। ভাষণের একটি অংশে তিনি বলেছেন, ট্রেনিং শেষ করেন নতুন ট্রেনিংয়ে যাওয়ার জন্য। এটার মাধ্যমে তিনি যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটা হলো, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, লাল সবুজের পতাকা থাকবে, ততদিন দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। যে মানুষের দেশপ্রেম নেই সে মানুষরূপী হলেও তার সুকুমার বৃত্তি এবং মনুষ্যত্ব ধ্বংস হয়ে যায়। তাই সবার মাঝে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।’

বুধবার চট্টগ্রামের মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ৪২তম ব্যাচের ক্যাডেটদের পাসিং আউট প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।

মেরিন ফিশারিজ একডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাসানের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, মার্কেন্টাইল মেরিন ডিপার্টমেন্ট, সরকারি শিপিং অফিসসহ অন্যান্য মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এ ব্যাচে নটিক্যাল বিভাগে ৬০জন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৫৯ জন (৪ জন মহিলা) এবং মেরিন ফিশারিজ বিভাগে ১৯ জন (১ জন মহিলা) ক্যাডেটসহ সর্বমোট ১৩৮ জন (৫ জন মহিলা) ক্যাডেট পাসড আউট হন। সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ক্যাডেটদের মাঝে পদক বিতরণ করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘জীবনের গতিকে রাখতে হবে অপ্রতিরোধ্য। আলোক বর্তিকা হাতে নিয়ে অন্ধকার ভেদ করে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে দেশপ্রেম, দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায়, সুচিন্তিত, বলিষ্ঠ লক্ষ্য এবং পরিশ্রম কখনোই বিফল হয় না।’

ক্যাডেটদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘একদিন আপনারা অনেক বড় হবেন। দেশ-বিদেশে আপনারাই হবেন দেশের অ্যাম্বাসেডর। বিদেশের জাহাজে আমাদের যে ক্যাডেট যাবেন, তিনিই কিন্তু বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর। তার আচরণ, কর্মদক্ষতাই প্রমাণ করবে ক্যাডেটদের যোগ্যতা।’

রেজাউল করিম বলেন, ‘যারা আগে এখান থেকে পাস করে বেরিয়েছেন, তারাই আজ আমাদের দেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন। তারা সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে এ সম্মান অর্জন করেছেন। আজকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আমাদের নৌবাহিনীর প্রশংসা করে। এ প্রশংসা ৩০ লাখ শহীদের, সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের এবং জাতির পিতার ১৪ বছরের কারাবরণের।’

ক্যাডারদের উদ্দেশে মন্ত্রীর পরামর্শ, ‘এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে আপনারা যে শিক্ষা পেয়েছেন তা যেন স্তিমিত হয়ে না যায়। আপনাদের মেধা, নৈপুণ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। এখান থেকে যা শিখে যাচ্ছেন সেটা যেন নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং কর্তব্যনিষ্ঠার মধ্য থেকে সম্প্রসারিত হয়। কখনোই যেন সেটা সংকুচিত হয়ে না যায়।’

নারী ক্যাডারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে গেলে নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। নারীরা আজ ঘরের মধ্যে আবদ্ধ নন। নারী আজকে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডাক্তার। সব কিছুতেই তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে নারী ক্যাডেটদের স্বপ্ন দেখতে হবে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎকে সুন্দর করে গড়ে তোলার।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আপনাদের বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরপর বেড়ে ওঠার দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা যে জ্ঞান এখান থেকে অর্জন করেছেন, সেটা দেশের উপকারে না লাগলে দেশ কখনোই উন্নতি করতে পারবে না। সুতরাং দেশের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করুন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *