মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সুজন : প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে শাহবাগে প্রায় ৭০ একর জায়গার উপরে ঢাকার অক্সিজেন চেম্বার হিসেবে খ্যাত রমনা পার্ক বা রমনা উদ্যান অবস্থিত। এখানে রয়েছে কয়েকশো প্রজাতির বনজ ফলজো এবং ঔষধি গাছ। জীববৈচিত্রের মধ্যে রয়েছে বাদামি রঙের এবং সাদা রঙের বিরল কাঠবিড়ালি , দোয়েল বুলবুলি ময়না শ্যামা শালিক সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের অভয়ারণ্য। রমনার মাঝে প্রবাহমান প্রায় ৮১২ মিটার দীর্ঘ লেক রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী রমনা উদ্যান কে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক গান এবং গীতি কবিতা। একসময় এই রমনা উদ্যানকে বলা হতো প্রেমের প্রতীক। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এই উদ্যানে। এছাড়াও সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে ও রমনা উদ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইট পাথরের ব্যস্ত শহরে গাড়ির হর্ন, ধোয়া আর ধুলো মাখা বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে যখন কষ্ট হয়ে যায় , তখন মানুষ একটু বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার জন্য ছুটে আসেন অক্সিজেন চেম্বার খ্যাত রমনা উদ্যানে। প্রভাতে বিকেলে এবং সন্ধ্যায় বহু লোক এখানে শরীরচর্চা এবং জগিং করার জন্য রমনা পার্কে আসেন। এছাড়া ও ক্লান্ত পথিক বৃক্ষের ছায়া তলে একটু আরামের জন্য রমনা উদ্যানে ছুটে আসেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে অক্সিজেন চেম্বার খ্যাত রমনা উদ্যানে ভাসমান মানুষ , মাদক সেবীদের আড্ডা , বখাটেদের আড্ডা এবং প্রতারকের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটা সময় স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আশা কপত-কপতি অথবা বন্ধু-বান্ধব এই রমনা পার্কে আসলে হকার নামের কিছু প্রতারক চক্রের হাতে তাদের হেনস্থা হতে হত। প্রশাসনের সহযোগিতায় আপাতত তা বন্ধ হলেও এখনো পুরোপুরিভাবে রমনা পার্ককে সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন এখানে বেড়াতে আসা সুশীল সমাজের লোকজন। বিকেলে হাটতে আসা এবং হালকা দৌড়ের মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ রাখার উদ্দেশ্যে আসা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে , রমনা উদ্যানের পরিবেশ এখন আর প্রাকৃতিকভাবে সীমাবদ্ধ নেই। ভ্রাম্যমান কিছু মানুষ পার্কের ভেতরেই বাস করে এবং মাদক সেবী ও উশৃংখল লোকজনের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার পথে। যদিও বা আনসার বাহিনীর কিছু সদস্যকে পার্কের সুরক্ষায় নিয়োজিত করা হয়েছে।তবুও যেন এখনো রমনা উদ্যান কে অরক্ষিত মনে হয়। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সপরিবারে অনেকেই এখানে বেড়াতে আসেন , পরিবার নিয়ে একটু স্বস্তিতে সময় কাটানোর জন্য। আর তাই অনেকেই মনে করেন ঐতিহ্যবাহী রমনা উদ্যান কে আরো সুরক্ষিত করা প্রয়োজন এবং মানুষের নিরাপত্তা, সুস্থ বিচরণের জন্য সরকারিভাবে সঠিক নীতিমালার প্রয়োজন। এখানে বেড়াতে আসা মানুষগুলো কোনভাবেই যেন কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হন সে ব্যাপারে প্রশাসন সুন্দর একটি নীতিমালা তৈরি করবেন এবং তা বাস্তবায়ন করবেন এটাই এখন সাধারণ মানুষের দাবি।
Leave a Reply