জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: রিজার্ভের পতনের মুখে আমদানি বাণিজ্য সংকুচিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রভাব পড়েছে আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলায়। গেল সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ২২ শতাংশেরও বেশি। যার পরিমাণ ছিল সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি। আগের বছর সেপ্টেম্বরে এলসি খোলা হয়েছিল ৬ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গেল মাসে ব্যবসায়ীরা দেশে ৪৬৮ কোটি ডলার বা ৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলেন। যা এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১৩৭ কোটি ডলার। এদিকে চলতি বছরের আগস্টের চেয়েও এলসি খোলা কমেছে সেপ্টেম্বর মাসে। আগস্ট মাসে আমদানির জন্য এলসি খোলা হয় ৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন বা ৫৫৯ কোটি ডলারের। যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৯১ কোটি ডলার বেশি।
সম্প্রতি রিজার্ভ কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। এর ফলে আমদানি বাণিজ্যে কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিলাসপণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ মার্জিন আরোপ করা হয়। বিদেশি ফল আমদানিতেও ৭৫ শতাংশ মার্জিন আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া যেকোনো আমদানিতে এলসি যদি ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি হয় তবে তার জন্য আগে থেকে অনুমতি নেওয়ার বিধান করা হয়। এর কিছুদিন পরে সে অংক ৫ থেকে কমে ৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এখনো ৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি এলসি খুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়।
এদিকে শুধু এলসি খোলাতেই নয়, এলসির অর্থ পরিশোধও কমেছে সেপ্টেম্বর মাসে। গেল মাসে এলসির ৪৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়। যা গেল ৩৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকগুলো ডেফার্ড এলসির বিল পরিশোধ করেছে। যার ফলে এখন এলসি পরিশোধ কম হচ্ছে। এছাড়া গেল বছর থেকেই আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। যার ফলে আমদানি আগের চেয়েও কম হয়েছে। তাই আমদানি দায় পরিশোধও কমেছে।
ডলার সংকটের এ সময়ে প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতেও। সেপ্টেম্বর মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এক অংকের ঘরে থাকে। সে মাসে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। যা গেল ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এদিকে কোনো ব্যবস্থাই দেশের ডলার পতন ঠেকাতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা কড়াকড়ির কারণে আমদানি ব্যয় কমলেও রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করায় রিজার্ভ বাড়ছে না। এছাড়া রপ্তানি আয়ও সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়নি সেপ্টেম্বরে। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স থেকে। এ খাত থেকে গেল এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ডলার এসেছে গেল মাসে। সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৩৪ কোটি ডলারের কিছু বেশি রেমিট্যান্স আসে দেশে। এর আগের মাসের তুলনায় ২৫ কোটি ডলার কম। আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৯ কোটি ডলারেরও বেশি। এছাড়া এক বছরের ব্যবধানে ১৮ কোটি ডলার কমেছে সেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্স।
Leave a Reply