জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশ নিহত ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় কারাগারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই মামলায় আসামি সরকার হটানোর এক দফা দাবিতে আন্দোলনে থাকা দলটির একগুচ্ছ শীর্ষ নেতা। তাদের খোঁজে ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানতে পেরেছে।
রমনা মডেল থানার মামলাটিতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নিপুণ রায়, আমিনুল হক, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বেশ কয়েকজন।
গত রবিবার হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। ঘিরে রাখা হয় মির্জা আব্বাসের বাসাও। ভেতরে ঢুকে মির্জা আব্বাসের খোঁজ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া বিএনপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার খোঁজে তাদের বাসায় অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্র ঢাকা টাইমসকে জানায়, গত শনিবার বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বা পরের দিন রবিবার হরতালে যে ‘নাশকতা’ ঘটেছে তার পেছনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দায় খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে হামলা ও কাকরাইল পুলিশ বক্সে আগুন, অর্ধশত গাড়ি পোড়ানো-ভাঙচুর, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, সরকারি স্থাপনা ও গাড়িতে হামলা, পুলিশের ওপর আক্রমণসহ সংঘাতের পেছনে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ইন্ধনের বিষয়টি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার থেকে বিএনপির ডাকা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধ শুরু হওয়ার আগেই শীর্ষ নেতাদের অবস্থান নিশ্চিত হতে চাইছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ নেতাদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট।
ঢাকা টাইমস জানতে পেরেছে, মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিন বিএনপির অবরোধ শুরুর আগেই বিএনপির এ নেতাদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের ধারণা, এ নেতাদের গ্রেপ্তার করা গেলে অবরোধ ঘিরে জনদুর্ভোগ, নাশকতা বা সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য সহজ হবে।
একজন ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে বলেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর রায়, রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদুসহ দলটির সিনিয়র নেতারা বাসায় নেই। তারা পলাতক। এ নেতাদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। তাদের বাসা ও তারা থাকতে পারেন এমন সম্ভাব্য স্থানগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
গত শনিবার বিএনপির সমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এদিন অর্ধশত যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের এক সদস্য ও যুবদলের স্থানীয় এক কর্মীর মৃত্যু হয়। আর রবিবার বিএনপির হরতাল চলাকালেও যানবাহনে আগুনের ঘটনা ঘটে।
এসব বিষয়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভীসহ দলটির শীর্ষ সারির নেতাদের আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকিরা গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন। আছেন আত্মগোপনে।
Leave a Reply