1. admin@jn24news.com : admin :
  2. onemediabd@gmail.com : admin2 :
  3. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

ফ্যাসিস্ট আমলের বিচারপতির কীর্তি ওকালতির নামে প্রতারণা, অগণিত মক্কেলের টাকা নিয়ে নয়ছয়

  • Update Time : শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫
  • ১০৩ Time View
সাবেক বিচারপতি একেএম জহিররুল হক এবং তার দুই পুত্র একেএম রাশেদুল হক (মুখে দাঁড়ি আছে) ও আলোচিত দুর্বৃত্ত আওয়ালী লীগ নেতা একেএম জোবায়দুল হক রাসেল

নিজস্ব প্রতিবেদক : আলোচিত-সমালোচিত বিচারপতি একেএম জহিরুল হক। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১৪ বছর তিনি উচ্চ-আদালতের বিচারপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের সঙ্গে তিনিও উচ্চ-আদালতের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। রাষ্ট্রের এই উচ্চ-সম্মানজনক পদে বসে বিচারপতি একেএম জহিরুল হক এতটাই দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন যে, ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত এক রিট মামলায় অবৈধভাবে ডিক্রি জারির মাধ্যমে রায় পরিবর্তন করার জন্য ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আরও দুজন বিচারপতির সঙ্গে তাকেও বিচারিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে হাইকোর্টের বিচারতির পদটি ঠিকই ধরে রাখেন একেএম জহিরুল হক; থেমে থাকে তার বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত। অবশেষে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে, টানা পাঁচ বছর বিচারিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার পর ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর পদত্যাগ করেন উচ্চ-আদালতকে পদেপদে কলুষিত করা এই বহুল-আলোচিত বিচারপতি।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টানা ১৪ বছর উচ্চ-আদালতের বিচারপতির চেয়ারে বসে নানা ধরনের দুর্নীতি আর অপকর্মের মাধ্যমে হাজার-হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করা এই বিচারপতি তার অপরাধমূলক কীর্তিকলাপ অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছেন এখনো। অভিযোগ উঠেছে, এবার রাজধানীর বিজয়নগরে আইনজীবী পরিচয়ে চেম্বার খুলে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে নানা ধরনের প্রতারণার খেলা শুরু করেছেন তিনি; মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে অগণিত মক্কেলের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ দেয়া ও মামলা লড়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা নিয়েও আদালতের ধারেকাছেই যাচ্ছেন না এই দুর্নীতিগ্রস্থ সাবেক বিচারপতি। আর এসব অপকর্মে তার সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তারই পুত্র অ্যাডভোকেট একেএম রাশেদুল হক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই বিচারপতিপুত্র রাশেদুল হক অতি মাত্রায় মাদকাসক্ত থাকার কারণে একপর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে বছরের একটি বড় সময় মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায় যে, রাশেদুল হক ঢাকার বেইলী রোডে অবস্থিত মনোয়ারা জেনারেল হাসপাতালের মনরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডক্টর সৈয়দ আজিজুল ইসলামের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকার উচ্চ-আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চললেও, তার কিছুতেই পাত্তা না দিয়ে পিতা-পুত্রের এসব প্রতারণা আর অপকর্ম দিনদিন বেড়েই চলছে।
উল্লেখ্য যে, বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের আরেক পুত্র হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের “সাপ্লায়ার” হিসেবে বহুল-পরিচিত একেএম জোবায়দুল হক রাসেল। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময় জুড়ে ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়ার নেতাদের নারী সরবরাহ করে সেই সুযোগে কোটি-কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি গড়েন এই জোবায়দুল ইসলাম রাসেল। ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অত্যন্ত ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত এই বিচারপতিপুত্র সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন পদ্মাসেতুসহ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোতে বালু ও পাথর সাপ্লাইয়ে দালালির মাধ্যমে। আর এই কাজে তার মাথার ওপর ছাতা হয়ে ছিলেন সাবেক সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুধু তাই নয়, সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পদ পেতেও রাসেলকে মোটা অংকের টাকা দিতে হলো বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনার জন্য নিজের সাবেক বিচারপতি পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে একেএম জহিরুল হক এবং তার পুত্র ও সহকারী আইনজীবী একেএম রাশেদুল হক মোটা অংকের টাকা নিয়েও আদালতেই দাঁড়ান না; এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে আদালতে দাঁড়ালেও প্রতিপক্ষের টাকা খেয়ে আবার চুপ হয়ে যান।
মোঃ আব্দুল হামিদ নামক এরকম এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে, জমিজমা সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির জন্য তিনি বিচারপতি জহিরুল হককে পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। এরপর মাসের পর মাস তাকে নানাভাবে ঘুরিয়ে এক পর্যায়ে তার সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করেন এবং চেম্বারে ঢুকতে পর্যন্ত বাধা প্রদান করেন।
ঠিক একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর বনানীতে বসবাসরত আরেক ভুক্তভোগী, যিনি কয়েক দফায় এই পিতা-পুত্রকে দুটি পৃথক মামলার জন্য প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা দিয়েছেন্য। কিন্তু একটি মামলাতেও বিন্দুমাত্র এগুনো তো দূরের কথা, উল্টো একটি মামলায় হেরে গিয়ে এখন তাকে নানা ধরনের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। পরে এই ভুক্তভোগী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, একেএম জহিরুল হক তার প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মামলায় হেরেছেন, যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রকৃত মক্কেলকে।
সাবেক বিচারপতি এবং সিনিয়র আইনজীবী হয়েও এ ধরনের প্রতারণা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনবিদ ডক্টর শাহাদিন মালিক। এই প্রতিবেদকের কাছে তিনি বলেন, “অনেক আইনজীবীর বিরুদ্ধেই এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। মক্কেলদের উচিত তাদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলে তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ করা। তথ্যপ্রমাণ না থাকলেও অভিযোগ করা যায়। আর এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে বার কাউন্সিল অবশ্যই শক্তিশালী ভূমিকা নেয় বলে আমি নিশ্চিত করছি”।
পিতা-পুত্রের এসব প্রতারণা-অপকর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক বিচারপতি একেএম জহিরুল হক ও তার ছেলেদের মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া হলে এ বিষয়ে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews