স্টাফ রিপোর্টার : রাঙ্গামাটি শহরে বন বিভাগের অফিসার হিসেবে কর্মরত পরিচয় দানকারী জাহাঙ্গীর আলম। ঢাকার আলমগীর কবিরকে উন্নত মানের সেগুন কাঠের ফার্নিচার ক্রয় করে দেওয়ার আশ্বাসে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণা করে এক লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ডায়েরী সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নবাবগঞ্জের বন্ধু শফিকের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি বন বিভাগে কর্মরত জাহাঙ্গীর আলমের সাথে ঢাকার আলমগীর কবিরের ফোনের মাধ্যমে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জাহাঙ্গীর বন বিভাগে অফিসার পদে কর্মরত থাকায় তার আশ্বাসে আলমগীর কবিরের বাসার জন্য উন্নত মানের সেগুন কাঠ দিয়ে ৫ সেট ফার্নিচার ক্রয় করতে উদ্বুদ্ধ করে। আলমগীর কবির তার কথা বিশ্বাস করে তিন কিস্তিতে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা দেয়। টাকা নেওয়ার পর থেকে জাহাঙ্গীর বিভিন্ন অজুহাতে ফার্নিচার পাঠাতে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আলমগীর কবির টাকা ফেরত চেয়ে ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার মেসেজ করে জাহাঙ্গীরের মোবাইলে পাঠায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর ব্যস্ততার অজুহাতে আরো দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে বলে। গত ১৭ জুলাই জাহাঙ্গীর তার দুটি মোবাইল ও বিকাশ নাম্বার বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় আলমগীর কবির হতভম্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডাইরি নম্বর ১৬৬১, তারিখ ২৬.০৭.২৩ ইং।
জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম বন বিভাগে ফরেস্ট গার্ড হিসেবে কর্মরত। কিন্তু ভুয়া পরিচয়ে আস্থা অর্জনের জন্য সকলের কাছে তিনি রেঞ্জ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। চাকুরির পাশাপাশি প্রতারণা করাই তার প্রধান পেশা। প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষের কাছ থেকে চাকুরী, গাছ, ফার্নিচার ও তক্ষক দেওয়ার কথা বলে কোটি টাকা আত্মসাৎ করে মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছে। তার এহেন কর্মকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন বিপাকে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন প্রশাসনের কাছে প্রতারক জাহাঙ্গীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।
Leave a Reply