নেটজনতার ওপর মহা বিরক্ত অভিনেতা নিলয়ের স্ত্রী

বিনোদন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপার অ্যাকটিভ ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা নিলয় আলমগীরের দ্বিতীয় তথা বর্তমান স্ত্রী তাসনুভা তাবাসসুম হৃদি। কারণ, তিনি একজন উদ্যোক্তা, ব্লগার এবং সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার।

স্বাভাবিক কারণেই সবসময় নেটমাধ্যমে সরব থাকতে হয় হৃদিকে। প্রতিদিনকার কাজের আপডেট শেয়ার করতে হয় ফেসবুকের পাতায়। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে হৃদি যা-ই পোস্ট করেন, তাতেই জমা পড়ে শয়ে শয়ে নেতিবাচক মন্তব্য।

ধারাবাহিক এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো মহা বিরক্ত নিলয়-পত্নী। এতদিন মুখ বুজে সব সহ্য করলেও অবশেষে মুখ খুললেন তিনি। নেটজনতার উদ্দেশ্যে উগরে দিলেন ক্ষোভ। তার জন্য বেছে নিলেন সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুককেই।

সম্প্রতি এই মাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্ট দিয়েছেন হৃদি। জেএন ২৪ নিউজের পাঠকদের জন্য তার সেই পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

আমি সত্যি কিছু কিছু মানুষের উপর বিরক্ত। পরিচিতি পেতে নেগেটিভ কমেন্টকে প্রোমোট করার মেয়ে আমি না। আমি এসব নিতেও পারি না। কিছু কিছু মন মানসিকতা দেখে আমি সত্যিই জগৎটাকে অন্যভাবে চিনছি।

এতো নোংরা মানুষ যে দুনিয়াতে আছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় না আসলে কল্পনাও করতে পারতাম না। আমি খুবই সাধারণ একটা মেয়ে, নিজের মতো কাজ করতাম। আইডিতে ১২ হাজার ফলোয়ার নিয়ে খুব ভালো ছিলাম।

এখানে হয়তো আমার অনেক পুরোনো ফলোয়ারও আছেন। যারা আমার আবৃত্তি শুনতেন, নিউজ দেখতেন। বিয়ের পর হঠাৎ করেই অনেক কাজের অফার আসে। আর পাঁচজন সাধারণ মেয়ের মতো আমিও প্রোমোশনের অফারগুলো নিতে শুরু করি।

এখন আমি বেশ সফল একজন ব্র্যান্ড প্রোমোটার। কিন্তু এটার আড়ালে নিজের পরিচয়টা যখন দেখছি হারিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টা নেয়া খুবই কষ্টকর আমার জন্য। কেউ যখন আমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, আমার হাজার কাজ, হাজার সার্টিফিকেট দেখিয়েও নিজের সেই পুরোনো পরিচয় তাদেরকে মানাতে পারি না। তখন আমি নিতেই পারি না।

আমি নিউজ প্রেজেন্টেশন করেছি, সেটা তারা মানে না। আমি ভালো আবৃত্তি করি বললেও দোষ। আমার স্কুল কলেজ, এমনকি ফেসবুকের বন্ধুরা সবাই জানে আমি কী কী করেছি। তাও যখন কিছু কতিপয় মানুষ এসে আমাকে অযোগ্য বলে, আমি নিতেই পারি না।

বাহ্যিক দুনিয়া যে বাহ্যিক সৌন্দর্য্য দিয়ে বিচার করা হয়, এটা আমি আগে জানতাম না। আমাকে তুলনা করে, আমার সৌন্দর্য্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অথচ আমি যে আমার মতো সুন্দর এটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহই ছিল না।

এখন আমারও মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়। আমি খুব ধৈর্য্যশীল, মিষ্টভাষী মেয়ে। যতই চাই সবাই আমাকে পজিটিভ ভাবে দেখুক, তাদের হিংসা, বিদ্বেষ আমাকে ততই নিচে নামিয়ে দেয়। কনফিডেন্স ভেঙে দেয় আমার। আমি বুঝতেই পারলাম না, আমি ভালো থাকলে তাদের কী সমস্যা।

পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে না জেনে নিজের মনগড়া মন্তব্য করে তারা, তুলনা করে। এসব আমি আর নিতে পারি না ভাই। ব্র্যান্ড প্রোমোশন করছি ভালো লাগে তাই। কাউকে জোর করে আমার ভিডিও দেখতে বলছি না। তারা দেখবেও। বাজে কথাও বলবে।

কী অদ্ভুত কলুষিত জাতি আমরা, কতটা নিচ আর জঘন্য। কেউ অপরাধী না হলেও তাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো। যদি সত্যিই আমার মন আয়নার মতো স্বচ্ছ হয়ে থাকে, আমি দোয়া করে যাচ্ছি। আমাকে যা যা বলছেন, সব যেন আপনারা ফেরত পান। আর আমার কথা যেন তখন মনে পড়ে।

আমি কেউ না, তাতেই এই অবস্থা। যারা অনেক বড় বড় মানুষ, তারা যে আপনাদের কীভাবে সহ্য করে, আল্লাহ জানে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে অভিনেত্রী ও মডেল আনিকা কবির শখকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা নিলয়। তাদের সেই সংসার বেশি দিন টেকেনি। এরপর গত বছরের ৭ জুলাই হৃদিকে বিয়ে করেন নিলয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে তাদের সুখের সংসার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *