অনলাইন ডেস্ক: তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই ইরানে আবার নতুন করে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের একটি সামরিক স্থাপনায় আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের এই অতর্কিত হামলার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।
তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করায় ইরানের চারটি ড্রোনও তাদের বাহিনী সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এই পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মার্কিন হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক ধাক্কায় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য এখন ৯৭ দশমিক ৮৩ ডলারে (৭৩ দশমিক ১৫ পাউন্ড) গিয়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, খোদ যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ক্রুড অয়েলের দামও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে।
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই হামলার পরপরই তেহরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী যেকোনো আন্তর্জাতিক জাহাজে তারা হামলা চালাবে। বর্তমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে আছে, যার সরাসরি ধাক্কা লাগছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ সাধারণত এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে এই মার্কিন হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও সংকটের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।