হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক হাইলাইটস

অনলাইন ডেস্ক: ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর গতকাল বুধবার ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে অবশ্যই হামলা ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

দেশ দুটির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কিছু পাইলট জোন বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং হিজবুল্লাহর মতো কোনো গোষ্ঠীর উপস্থিতি সেখানে থাকবে না।

উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এসেছে। বুধবার দিনের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন।

যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হিজবুল্লাহর হামলা ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর নতুন করে হামলা শুরুর পর এটি ছিল দুদেশের কূটনীতিকদের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি বৈঠক।

বিবৃতি অনুযায়ী, ২২ জুন বা তার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে।
তবে নতুন এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ও নিরাপদ লেবানন বিনির্মাণের কর্মপরিকল্পনা তৈরি সম্ভব হবে।

চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে এই আংশিক যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছিল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বুধবার দক্ষিণ লেবাননের চেহুর এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে দুজন প্যারামেডিক (চিকিৎসাকর্মী) নিহত হন। এ ছাড়া রাজধানী বৈরুতের ঠিক দক্ষিণে একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা একটি ড্রোন এবং দুটি রকেট তারা আকাশেই ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করেছে। আর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছিল।

বুধবার সন্ধ্যার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে ইসরায়েলি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হিজবুল্লাহ যদি উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলি দাহিয়েহতে আবারও বিমান হামলা শুরু করবে দেশটির সামরিক বাহিনী। উল্লেখ্য, দাহিয়েহ অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া আংশিক যুদ্ধবিরতির শর্ত ছিল— হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার বিনিময়ে ইসরায়েলও বৈরুতে কোনো বড় ধরনের আগ্রাসন বা হামলা চালাবে না।

লেবানন সরকার দাবি করেছিল, হিজবুল্লাহ এই শর্তে সম্মতি জানিয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি বিবিসির কাছে দাবি করেন, আসলে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি, শুধু দাহিয়েহ অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার একটি সমঝোতা হয়েছে।

কামাতি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান আলোচনায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।

সূত্র: বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *