ছাত্রী ‘ধর্ষণ’: টাকা দিয়ে মীমাংসা চেয়েছিলেন সেই মাদ্রাসা শিক্ষক

ক্রাইম নিউজ

অনলাইন ডেস্ক: নেত্রকোণার মদন উপজেলায় আলোচিত ১২ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণে ঘটনাটি সেই মাদ্রাসা শিক্ষক টাকা দিয়ে মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন- এমনটি পরিবার অভিযোগ করেছে।

কিন্তু শিশুটির মা তাতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এখনও সেই মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে।

উপজেলার হযরত ফাতেমাতুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় শিশুটির ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি গত শুক্রবার সবার নজরে আসে; যখন শিশুটির চিকিৎসক সেটি ফেসবুকে জানান।

যদিও এর আগেই ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর এবং তার ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মামলা করেন।

২০২২ সালে পাঁচহার গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক সাগরের স্ত্রী।

শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। শিশুটি তার নানীর কাছে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।

ময়মনসিংহের নারী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সায়মা আক্তার মদন উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। সেখানেই শিশুটি তার কাছে চিকিৎসা নিতে এসেছিল।

তিনি বলেন, গত বছরের নভেম্বরের দিকে মাদ্রাসা ছুটির পর শিক্ষক শিশুটিকে বাড়ি যেতে দেননি। তিনি তাকে মাদ্রাসার বারান্দা ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলেন। বারান্দা ঝাড়ু দেওয়া হলে তাকে নিজের ঘরও ঝাড়ু দিতে বলেন ওই শিক্ষক।

শিশুটি যখন ঘর ঝাড়ু দিতে যায়, তখন শিক্ষক দরজা আটকে ফেলেন এবং শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একই ঘটনা তিনি পাঁচ থেকে সাতবার করেন বলে চিকিৎসক জানান।

তিনি বলেন, এ সময় শিশুটিকে প্রচণ্ড ভয় দেখানো হয়। তাকে বলা হয়, এই ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার নানীকে মেরে ফেলা হবে। সিলেটে গিয়ে তার মাকেও মেরে ফেলা হবে। এভাবে ঘটনাটি ঘটেছে।

চিকিৎসক শিশুটির সিজার বা স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়ে জটিলতার কথাও বলেছেন। কারণ, শিশুটির শরীরের তুলনায় বাচ্চার আকার বড়। এটি শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শিশুটির মা বলেন, রাতে মেয়ের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানোর সময় আমার নজরে আসে মেয়ের পেট কিছুটা উঁচু। তখন খটকা লাগে এবং তাকে ডাক্তারের কাছে যাই। তখন ডাক্তার বলেন, মেয়ে গর্ভবতী।

তিনি বলেন, বিষয়টা জানাজানি হলে মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর টাকা দেওয়ার লোভ দেখায়। বিষয়টি সমাধান করতে বলে। আমি রাজী হই নাই। আমি বলি, গ্রামের মানুষ আছে। সবাইকে নিয়ে যা করার করব। পরে মামলা করি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। সাগরের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই।

মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মামলা করেছি। আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। আশা করছি, দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *