জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: মোটা চাল এখন মানুষ খায় না, গরু ও হাঁস-মুরগিকে খাওয়ানো হয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বলেন, ‘মোটা চাল এখন কোথাও বিক্রি হয় না।’
সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ইনস্টিটিউট প্রকাশিত ‘নব্বই এর গণঅভ্যুত্থান’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এসব বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘বিএনপির সন্ত্রাসী আর রাজনৈতিককর্মী গুলিয়ে ফেলেছে। তারা নিজেরা রাজনীতির নামে সন্ত্রাস করে বলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পায় না। কিন্তু এ দুই কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য আছে সেটা তাদের বোধয় হয় না। কিন্তু বিএনপির কর্মসূচি হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মসূচি।’
সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন করায় জাতির অর্জন অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সাড়ে ১৪ বছরে জাতির অনেক অর্জন হয়েছে। এটি মির্জা ফখরুল স্বীকার করেছেন। সরকার কারও ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে না। যারা আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলা করেছে এবং এখনো করছে। যারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের নেতৃত্বে রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নিতে হবে।’
নিবন্ধনহীন আইপিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্যাটালাইট টিভি চ্যানেলগুলোকে মাসে বিটিআরসিকে ২০ লাখ টাকার বেশি ফি দেয়। সরকার ৫০টি মতো টিভি চ্যানেলের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে, এর মধ্যে ৩৬টি টিভি সম্প্রচারে আছে। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে দেখা যায় আইপি টিভিগুলো টেলিভিশন চ্যানেলের মতোই বুম নিয়ে হাজির হয়। এদের কোনো অনুমোদন নেই। এরা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত। আইপিটিভি বা ইউটিউব চ্যানেলে সংবাদ প্রচার করা যায় না। এ জন্য তারা চাঁদাবাজি করে। আবার অনেকের পক্ষে ও বিপক্ষে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য তারা চাঁদা নেয়। এ কাজগুলো সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আইপিটিভি বন্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অভিযান চালানোর জন্য। যাদের বৈধ লাইসেন্স নেই, যারা চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব অবৈধ কাজ কারবার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন, সে কারণে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সাড়ে ১৪ বছর আগে একজন রিকশাওয়ালা সারাদিন রিকশা চালিয়ে ৪-৫ কেজি চাল কিনতে পারতো, এখন কমপক্ষে ১০ কেজি কিনতে পারেন বা আরও বেশি কিনতে পারে। আগে জিজ্ঞাসা করলে মানুষ বলতো, মোটা ভাত, মোটা কাপড় কিনছি। মোটা চাল এখন মানুষ খায় না। মোটা চাল কোথাও বিক্রি হয় না । মোটা চাল এখন গরু ও হাঁস- মুরগিকে খাওয়ায়। আগে মানুষ বলতো ডাল ভাত, এখন মানুষ মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে কেন সেটি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন আর মোটাভাত ও আর মোটা কাপড় নয়, এখন মোটা কাপড়ও কেউ পরে না, এটাই হলো পরিবর্তন। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছিতো সেজন্য অনেক সময় অনুধাবন করতে পারি না।’