পাশের ফ্লাটের সামনে জুতা দেখে সন্দেহ, ভেতরে মেলে মরদেহ

ক্রাইম নিউজ নগর জীবন

অনলাইন ডেস্ক: মিরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছ, সেই ছাত্রীর নাম রামিসা আক্তার। তাকে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি করছিল তার মা। পুরো পাঁচতলা ভবন খুঁজে না পেয়ে শেষ তিনতলায় তাদের পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে দেখতে পান মেয়ের স্যান্ডেল। কিন্তু ডাকাডাকি করতে গিয়ে দেখেন দরজা বন্ধ।

পরে ভবনের অন্য বাসিন্দাদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটের বাথরুমের বালতিতে পাওয়া যায় শিশুটির কাটা মাথা, আর দেহটি ছিল খাটের তলে। ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটে সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।

পুলিশ আসার পর স্বপ্নাকে আটক করে। আর সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

তবে কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে পুলিশ।

ঢাকার পল্লবীতে এক দশকের বেশি সময় ধরে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকছিলেন বেসরকারি চাকুরে আব্দুল হান্নান মোল্লা। এখানেই তার দুই মেয়ের জন্ম। ছোট মেয়ে রামিসা পড়ত স্থানীয় একটি স্কুলে।

হান্নান মোল্লার একজন প্রতিবেশী বলছেন, “বাচ্চাটা লেখাপড়ায় খুবই ভালো। গত বছর ফার্স্ট হইছে, রোল নম্বর ১। এই কথা বিল্ডিংয়ের সবাই জানে। এই বিল্ডিংয়ে ওরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে আছে। চোখের সামনে বাচ্চাটাকে বড় হতে দেখলাম। আজ দেখলাম ওর মাথাটা পাশের ফ্ল্যাটের বালতির ভেতরে।”

ওই ভবনের ভাড়াটে এক নারী বলছেন, সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি করছিল। না পেয়ে ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে ও নীচতলায় তিনি এক দফা খুঁজে এসে দেখেন পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার একটা স্যান্ডেল। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। তিনি অনেকক্ষণ ধরে দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন।

ওই নারী বলেন, “আমি তখন রান্নার জন্য কুটা-বাছা করছিলাম। গেট পিটানোর শব্দ শুইনা গিয়া দেখি, রামিসার মায় দরজা ধাক্কাইতাছে আর ডাকতাছে ‘রামিসা রামিসা’। আমি গেলে হ্যার মায় কয়, ভিতর থাইকা নাকি রামিসার ‘আম্মু’ বইলা চিক্কুরও সে হুনছে। পরে দরজা ভাঙতে না পাইরা সে রামিসার বাবারে ফোন করছে। বাপে আইসা হাতুড়ি দিয়া দরজা কিছুটা ভাইঙা ফুটা দিয়া দেখে হ্যাগো বাথরুমে রক্ত। রক্ত দেইখাই তারা কান্না শুরু করছে, ভাবছে মাইয়ার কিছু একটা হইছে। পরে লোকজনসহ গেট ভাইঙা দেখে ভিতরে এক মহিলা। পরে বাথরুমের বালতির ভিতরে রামিসার মাথা পাইছে আর ঘরের ভিতর বডিটা আছিল। ওর বাপে মাইয়ার লাশ দেইখা বেহুঁশ হইয়া গেল। পরে লোকজন ধইরা রুমে নিয়া গেছে।”

ইয়াসিন আলী নামে মিল্লাত ক্যাম্প এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “ওই বাড়িত হৈ হল্লা শুইনা আইসা দেখলাম, হান্নানের মাইয়ারে টুকরা কইরা মাইরা ফেলছে। আর যে ব্যাডায় করছে, ওই রিকশা মিস্ত্রী গ্রিল ভাইঙা পলাইছে।”

ইয়াসিন বলেন, রিকশা মিস্ত্রী সোহেল রানা কয়েক মাস হলো ওই বাসায় সাবলেটে ভাড়ায় উঠেছেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে বাসায় পেয়ে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

“তবে সোহেলের স্ত্রী পুলিশকে বলেছে, তাকে কোনো নেশাদ্রব্য প্রয়োগ করে প্রায় অচেতনের মতো করে রেখে সোহেল এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”

পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, শিশুটিকে হত্যার পর সোহেল পালিয়ে যায়। তবে আমরা তাকে ১০ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছি।

তিনি বলেন, ঘটনার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *