ডি‌মের দাম হা‌লিতে ৫০ টাকা ছাড়ালো, নিত্যপণ্য ঊর্ধ্বগতি

অর্থনীতি হাইলাইটস

অনলাইন ডেস্ক: এক সপ্তাহ আগেও খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১১ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার রাজধানর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম ১৩ টাকা ও এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে।

এদিকে, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। শুধু সবজি নয়, ডিম, মাছ, মুরগি, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম চড়া।

ব্যাবসায়ীদের অজুহাত টানা বৃষ্টিপাতের জন্য সরবরাহ ব্যাহত এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়ায় বাড়তি দাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অপরদিকে ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে এখন ব্রয়লার, পাঙাশ বা ডিম ভর্তাও খেয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (০৮ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে আলু পেঁপে ছাড়া বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৮০ টাকার উপরে। সবজির দাম বাড়লে নিম্নআয়ের মানুষ প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সে ডিমের দামও হু হু করে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ১০ টাকা। আর এক মাসের কম সময়ের মধ্যে ডজনে দাম বেড়েছে ৩০–৪০ টাকা।

রাজধানীর কমলাপুর কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। করলা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সজিনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ২০ বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় এবং হাইব্রিড ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে লেবুর দাম কমতে শুরু করেছে। এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ কেজি, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চালকুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অমৌসুমী শীতকালীন আগাম সবজি শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে চড়া দামে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কালারবার্ড বা হাইব্রিড সোনালি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৩০ টাকায়।

এক মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম বেড়েছে ডজন প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। গত মাসে এ সময়ে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে।

এদিকে, মুগদা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

নিউমার্কেট কাঁচাবাজারের ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায়, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকায়, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেটে ক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, বাজারে সব কিছুর দাম বাড়তি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর আস্তে আস্তে সবকিছুর দাম বাড়ছে। গত মাসে আমি এক ডজন ডিম নিয়েছি ১১০ টাকা করে, আজ চাচ্ছে ১৪০ টাকা। আমার বেতন তো আর প্রতি মাসে বাড়ে না, মাছ মাংসের কথা বাদ দিলাম। এখন বাসা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় খেয়ে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্যের ব্যাপার।

এদিকে মুদি বাজারে অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে প্রায় তিন মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট ছিল। দেড় সপ্তাহ আগে দেশে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে চার টাকা বাড়ানো হয়। তাতে ১ লিটারের বোতলের সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। দাম বাড়ানোর পরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।

চালের বাজারে মাঝারি মানের চিকন চাল ও মোটা চালের দাম খুচরা পর্যায়ে এক-দুই টাকা করে বেড়েছে। মাঝারি মানের প্রতি কেজি চাল মানভেদে ৬০ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বৃহস্পতিবারের বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি মানের প্রতি কেজি চালের দাম ৪ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এদিকে হাওরসহ সারা দেশে বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। নতুন চাল বাজারেও আসছে। ধানের দাম কম হওয়ায় চালের দামও কমার কথা। অথচ উল্টো বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *