টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনূস সরকারকে ‘অনেকবার’ সতর্ক করা হয়েছে: ইউনিসেফ

জাতীয় হাইলাইটস হেলথ কর্ণার

অনলাইন ডেস্ক: টিকার ঘাটতি এবং এই ঘাটতির কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘বহুবার’ সতর্ক করে দেওয়ার কথা বলেছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে চিঠি পাঠানোর কথাও বলেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে টিকার ‘আসন্ন ঘাটতির’ কথা জানিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে চিঠিটি পাঠান ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

ওই চিঠির আগে হামের টিকার সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে রোববার ইউনিসেফ বাংলাদেশ বলেছে, “হ্যাঁ। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে ইউনিসেফ বহুবার আলোচনায় যুক্ত হয়েছিল।

তারা বলেছে, মজুত শেষের ঝুঁকি, রোগ বিস্তার, জটিলতা ও শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়ে সতর্ক করে দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে ওই বৈঠকগুলোর ফলো-আপ করা হয়েছিল।

২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় টিকা আনত সরকার। এতে অর্থায়ানের মূল উৎস ছিল দাতাদের সহায়তা। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এটাকে রাজস্ব বাজেটের খরচের আওতায় এনে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার পথে এগোয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার বিরূপ পরিস্থিতি এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কারণেও টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে দেশে ৪৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরমধ্যে হামে মৃত্যু হয় ৭৪ জনের।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠি, টিকার সংকট এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

তাতে টিকার ঘাটতি সংকট নিয়ে বহুবার সতর্ক করার কথা তুলে ধরে ইউনিসেফ বলেছে, রাজস্ব বাজেটে যাওয়া এবং উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়াসহ ক্রয় পদ্ধতির দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তনের কারণে টিকা পেতে দেরি হয়েছে। আর এটা যে টিকার সময়সীমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ ও অন্য অংশীদাররা।

ইউনিসেফ বলছে, আগামীতে সময়মত টিকা পেতে ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছে বর্তমান সরকার।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাম ছড়িয়ে পড়ার আগে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে ইউনিসেফ বলেছে, “উচ্চমাত্রায় টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, সময়মত কেনাকাটা এবং নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ বজায় রাখার গুরুত্বের কথা ইউনিসেফ ধারাবাহিকভাবে বলে এসেছে। দেশীয় অর্থায়নের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও এই রূপান্তরের কারণে বিলম্ব হয়েছে।”

টিকা কেনার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র নিয়ে ইউনিসেফের তরফে শুরু থেকে প্রশ্নে তোলা হয়েছে দাবি করে সংস্থাটি বলেছে, “পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইউনিসেফ সম্ভাব্য সর্বনিম্ন দামে সরকারকে টিকা সরবরাহ করতে পারে এবং আমাদের একমাত্র লক্ষ্যই হলো শিশুদের সুরক্ষা।

“ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের কেনাকাটায় দীর্ঘ সময় লাগে (আট থেকে ১১ মাস) এবং সময়মত টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকে যায়।”

সরাসরি ক্রয়প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, “২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যার মধ্যে রয়েছে, জরুরি হাম-রুবেলা টিকা অভিযান এবং ইউনিসেফের ক্রয়-প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে টিকা কেনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।”

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *