জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের নামে নানা তৎপরতায় কোনো কোনো দেশ ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিশীল সৃষ্টি করে বিশেষ একটি শক্তি ভারত মহাসাগর অঞ্চল, বঙ্গোপসাগর অঞ্চল দখলে নিতে চায়। তারা আশেপাশের বিভিন্ন দেশগুলোকে ধ্বংস করতে চায়।
বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাকি সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারের হত্যাকাণ্ড কারবালা হত্যাকাণ্ডকেও হার মানায়। কারবালা হত্যাকাণ্ডে কোনো শিশু ও নারীকে হত্যা করা হয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত। তিনিই হত্যার মাস্টারমাইন্ড। জামায়াতের উত্থান জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যে দিয়ে এদেশকে পাকিস্তানের ভাবধারায় নিতে চেয়েছিল স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা ছিল ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। একই সঙ্গে আমার মা, আমার তিন ভাই, কামাল-জামালের বউদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ইতিহাসের এ জঘন্য ঘটনা বাংলার মাটিতে ঘটে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমার ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে মাত্র ১৫ দিন আগে ৩০ জুলাই জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ৩১ জুলাই সেখানে পৌঁছাই। আমরা ভাবতেও পারিনি আমাদের জীবনে এমন একটা আঘাত অপেক্ষা করছে। ১৩ তারিখে আব্বার সঙ্গে, মায়ের সঙ্গে, সবার সঙ্গে কথা হয়। ১৫ তারিখে এ ঘটনা ঘটার পর যখন আমরা জানতে পারি, তখন সব তথ্য আমরা জানতে পারিনি। আপনজন হারিয়ে বিদেশে রিফিউজি হিসেবে থাকতে হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এখন নির্বাচন নিয়ে অনেকে উতলা হয়েছে। তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- ২০০১ সালে যখন আমাদের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করেছে, তখনতো নির্বাচন নিয়ে তাদের এত মাথাব্যথা ছিল না। ৯৬ সালে খালেদা জিয়ার বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে তো তাদের এমন চেতনা দেখিনি। খালেদা জিয়া ভুয়া ভোটার নিয়েও তো তাদের কোনো উদ্বেগ দেখিনি। এ দেশের যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালালো, তাদের সঙ্গে বসতে হবে কেন? আমার মনে হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা তাদের পছন্দ না। এদের উদ্দেশ্য, নির্বাচন বা গণতন্ত্র না। এরা উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। আমি তাদের দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) একটা প্রোগ্রামে গিয়ে দেখেছি, লেখা আছে গভর্নমেন্ট অব দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল। এবিষয়ে আমি তাদের বলেছি- আমি এমন দেশ (বাংলাদেশ) থেকে এসেছি, যেখানে গভর্নমেন্ট অব দ্যা আর্মি, বাই দ্যা আর্মি, ফর দ্যা আর্মি। সেই দলের পক্ষে আপনারা কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশে কিছু আতেল আছে, তারা এসব চিন্তা করে কিনা জানি না। কিছু উপলব্ধি না করেই দুটো পয়সার পাওয়ার আশায় এদের সঙ্গে সূর মিলায়। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আর আগেও গ্যাস বিক্রির কথা আসছিল, আমি বলেছিলাম- দেশের স্বার্থ বেঁচে ক্ষমতায় আসতে হবে, এত ক্ষমতালোভী আমি না। আমার বাবাও এমন ছিলেন না।
নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের একজন কুলাঙ্গার সুদখোর আছে। শ্রমিকের অর্থ মেরে খায়। দেশের ট্যাক্স দেয় না। গরিব থেকে উচ্চ সুদে টাকা নিয়ে মেরে দিয়ে বিদেশে পাচার করে। বিদেশে বসে বিলাস জীবনযাপন করে।