খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেবেন তিন মার্কিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

রাজনীতি

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছেন তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত জন হপকিনস হাসপাতালের এই তিন চিকিৎসক বুধবার বাংলাদেশে পৌঁছাবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে ঢাকা টাইমস জানতে পেরেছে, বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা সেবা দিতে মার্কিন তিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে বাংলাদেশে আসতে এরইমধ্যে সরকারের তরফ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন খালেদা জিয়া। তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আবেদনও করা হয়েছে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে না পারায় পরিবার ও দলের পক্ষ বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার চেষ্টার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

এদিকে মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টায় শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউতে) নেওয়া হয় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। দুপুরে তাকে সিসিইউ থেকে ফের কেবিনে নেওয়া হয়।

মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। দিন দিন তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে। পেটে পানি জমার কারণে গত বৃহস্পতিবারও তাকে এক দফা সিসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে আবার তাকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে গত ৯ আগস্ট রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন ৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। এছাড়া তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লকও ধরা পড়ে। এর একটিতে রিং পরানো হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সাজা হয়। সেদিন থেকে তিনি কারাবন্দি হন। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার খালেদা জিয়ার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। প্রতি ছয় মাস পরপর সরকার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *