জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: দেশি-বিদেশি অংশীদার ও কূটনীতিকদের কাছে সহযোগিতামূলক আচরণের প্রত্যাশা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অংশীদারিত্ব আশা করি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই ভারত, রাশিয়া ও চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে নতুন সরকারকে স্বাগত জানানোর পর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি মর্মে বিবৃতি প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ ও অস্ট্রেলিয়া।
ঠিক এমন মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতিকদের সহযোগিতা চাইলেন।
৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ ২২২ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগষ্ঠিতা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে ভোটারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার মাধ্যমে জনগণ নিজেদের গণতন্ত্রপ্রেমিক হিসেবে প্রমাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু দেশের সোনার মানুষদের কথাই বলেছিলেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার স্বপ্ন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে এই সোনার মানুষদের পাশে চাই বলেও বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
১৯৭০ এর নির্বাচন স্মরণ করে ড. মোমেন বলেন, ‘সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরেও নানা ষড়যন্ত্রে তা দমন করা হয়। তাই ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ ও বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করেও স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়নি। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফেরার পর থেকেই পূর্ণতা পায় স্বাধীনতা।’
এখন ২০২৪ সাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৭১ এই সংগ্রাম করে আমরা পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছি গণতন্ত্রের জন্য এদেশে ৩০ লাখ শহীদ প্রাণ দিতে পারে। এবার ১০ জানুয়ারি সেই আওয়ামী লীগ টানা ৪ বার এবং পঞ্চমবারের মতো জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি বাংলাদেশ গণতন্ত্রের দেশ। ন্যায়বিচারের দেশ ও মানবাধিকারের দেশ।’
যুক্তরাষ্ট্রের শাসনতন্ত্র নির্মাণে ১৩ বছর লেগেছে উল্লেখ করে বলেন, ‘৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা শাসনতন্ত্র তৈরি করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ করেছি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের কারণেই এই স্বীকৃতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।’
এই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিশিষ্টজন ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।