সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে : গয়েশ্বর

0
7

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব খেলা শেষ। সাহায্য আনতে গিয়ে পায়নি। রাতে ভোট কাটারও লোক তার নাই। তাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, নিশ্চিন্তে ভোট দেওয়ার দেওয়ার প্রস্তুতি নিন। চিকন লাঠিতে কাজ না হলে মোটা লাঠি নিয়ে রাজপথে নামুন। ওরা পরাজিত হবেই।

বুধবার বিকালে মিরপুর ৬ নম্বর কাঁচাবাজার সংলগ্ন সড়কে দলীয় সমাবেশে বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন।

বিদেশি কূটনৈতিকদের উদ্দেশ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্বকে আহ্বান জানাই গণতন্ত্র উদ্ধারে পাশে থাকুন। আমাদের ক্ষমতায় এনে দিতে হবে না। কে ক্ষমতায় আসবে তা জনগণই ঠিক করবে।

দুপুর ২টার পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন এবং লাঠি ও স্ট্যাম্পে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা টানিয়ে মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশ স্থলে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। এদিকে সমাবেশস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে।

গয়েশ্বর বলেন, আন্দোলনে জোয়ার শুরু হয়েছে, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে না দিয়ে ঘরে ফিরে যাবো না। মাত্র রিহার্সেল, ফাইলান খেলায় এখনো নামিনি। আন্দোলনে যারা রক্ত দিয়েছেন তা বৃথা যাবে না। রক্ত দিয়েই গণতন্ত্র উদ্ধার করবো।

বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষনেতা বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে যাদের দায়িত্ব দেবে তারাই দেশ চালাবে, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় তাদের কাছে কোনো দাবি করে লাভ নেই। আজ জনগণের একটাই দাবি সরকারের পদত্যাগ। শান্তিপূর্ণ কমসূচি দিয়ে কিছু হবে না। সবার হাতে মোটা লাঠি থাকতে হবে। কাউকে আঘাত করার জন্য নয়।নিজেদের আত্নরক্ষার জন্য। তবে আঘাত আসলে পাল্টা আঘাত করতে হবে।

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্য বলেন, নেতাকমীদের ওপর যারা হামলা করেছে সেসব অপরাধীদের জনসম্মুখে হাজির করেন তা না হলে জনগনের কাঠগড়ায় আপনাদের বিচার হবেই। পাল্টা আঘাত শুরু করলে পালানের জায়জা পাবেন না। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রাজনীতির ছেড়ে দেওয়ার যে কথা বলছিলেন সামনে আবার সেই দিন আসছে।

তিনি বলেন, লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছি কাউকে আর স্বৈরাচারী কায়দায় শেষ শাষণ করতে দেবো বা। আমাদের এই আন্দোলন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য না, এই আন্দোলন জনগনকে শৃঙ্খলমুক্ত করার আন্দোলন।

প্রশাসনের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এখনো সময় আছে জনগনের কাতারে আসেন, সব অন্যায় মাফ হয়ে যাবে। ভয় পাবেন না, ভুল বুঝানো হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আপনাদের চাকরি চলে যাবে। বিএনপিক্ষমতায় কারো চাকরি যাবে না। নিরপেক্ষ থাকুন নইলে সরে দাঁড়ান।

এই সরকারের অধীনে যারা নির্বাচন করতে চাইবে বা ভাগ বাটোয়ারা নির্বাচন করতে চায় সেটা আমার দলের হোক অন্য কোন দলের হোক তাদের রাজপথে প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান ।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন হবে না। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের নাম উল্লেখ না করে গয়েশ্বর বলেন, যাওয়ার সময় বলে গেছেন যে তারা ব্যক্তির পক্ষে না তারা দেশের পক্ষে জনগণের পক্ষে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএম নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, লুটপাট করতেই এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কয়েকজনের পকেট ভারি হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, শান্তিপূন সমাবেশ বানচাল করার জন্য অনেক কারসাজি করা হয়েছে, আক্রমণ করা হয়েছে। কারন বিএনপি জনগনের কল্যানে কথা বলে। আজকে মত প্রকাশপর স্বাধীনতা নেই। মিডিয়ার মুখে তালা মারতে চায়। এই স্বাধীন দেশটাকে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এবার রাজপথে ফয়সালা হবে। আন্দোলনের মুখে সরকারের বিদায় নিতে হবে। বুক পেতে দেবো, রক্ত দেবো তবুও এই সরকারের অধীনে নিবাচন হতে দিবো না। তাই প্রশাসনকে বলবো নিরপেক্ষ হয়ে যান। না পারলে সরে যান।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুব মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী , কেন্দ্রীয় নেতা নাজিমুদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য তাবিথ আউয়াল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।