সশরীরে আদালতে হাজির হতে যাচ্ছেন না পরীমনি

0
24

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে চলছে মাদক মামলা। অন্তঃসত্ত্বা থাকায় এই মামলায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। বিশেষ বিবেচনায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। পরীমনি মা হয়েছেন প্রায় এক মাস হতে চলল। কাজেই এবার পরীমনির সশরীরে আদালতে হাজিরা চায় রাষ্ট্রপক্ষ।

রবিবার ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মাহবুব হাসান।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তঃসত্ত্বা থাকায় আইনজীবীর মাধ্যমে আসামির (পরীমনি) হাজিরা মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তিনি এখন মা হয়ে গেছেন। তাই আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরার আর প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে প্রত্যেক ধার্য তারিখে তাকে (পরীমনি) সশরীরে আদালতে হাজির হতে আদেশ দেওয়ার আবেদন করছি।’

এখন প্রশ্ন হলো, পরীমনি কি সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে যাবেন? এ সম্পর্কে জানতে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল । আদালতে হাজিরা দিতে যাবেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘দেখেন আমার এখন যে পরিস্থিতি, তাতে বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। আমার আইনজীবী এ ব্যাপারে সময় চেয়েছেন।’

এদিকে, গত রবিবার পরীমনির সশরীরে হাজিরা দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের বিরোধীতা করেন নায়িকার আইনজীবী মজিবুর রহমান ও নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। তারা বলেন, ‘মাস খানেক হলো পরীমনি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। তাছাড়া সরকারিভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস। পরীমনি সুস্থ হলে আদালতে হাজিরা দেবেন।’

এদিন শুনানি শেষে বিচারক নজরুল ইসলাম আবেদনটির বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে নথিভুক্ত রাখার আদেশ দেন। একইদিন মামলার বাদী র‌্যাব-১ এর কর্মকর্তা মজিবর রহমানকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। এরপর আদালত ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

শুনানিকালে পরীমনির ম্যানেজার এবং এ মামলার আসামি আশরাফুল ইসলাম দিপু ও খালু কবীর হাওলাদার আদালতে হাজির ছিলেন।

গত ৫ জানুয়ারি পরীমনিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলায় পরীমনিসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ অক্টোবর ঢাকার সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা।

গত বছরের ৪ আগস্ট বিকালে বনানীর ১২ নম্বর রোডে পরীমনির বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে ১৯টি বোতলে ১৮.৫ লিটার বিদেশি মদ, চার গ্রাম আইস, এক স্লট এলএসডি জব্দ করা হয়। আটক করা হয় পরীমনিকে। পরদিন বনানী থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে অভিনেত্রীর নামে একটি মাদক মামলা দায়ের করে।

মামলার চার্জশিটে বলা হয়, চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসা থেকে জব্দ হওয়া মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না। তদন্তকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর লিখিতভাবে জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পরীমনির নামে মদজাতীয় পানীয় সেবনের লাইসেন্স দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ৩০ জুন তার মেয়াদ শেষ হয়েছে।

অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহের বিষয়ে বলা হয়, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরীমনি বিভিন্ন স্থান থেকে দুই আসামি আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য রাখার বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

এই মামলায় তিন দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে যেতে হয়েছিল পরীমনিকে। ২৭ দিন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে কাটিয়ে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এর দেড় মাস পরে অভিনেতা শরীফুল রাজকে বিয়ে করেন পরীমনি। সেই খবর প্রকাশ করেন চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি। এও জানান, তিনি রাজের সন্তানের মা হতে চলেছেন।

গত ১০ আগস্ট রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন পরীমনি। ছেলের নাম রেখেছেন শাহীম মোহাম্মদ রাজ্য। বর্তমানে তাকে নিয়েই সময় কাটছে অভিনেত্রীর। কবে কাজে ফিরবেন, এমন প্রশ্নে নায়িকা ঢাকা টাইমসকে বলেছেন, ‘কাজে ফেরার ব্যাপারে এখনো কিছু ভাবিনি। আপাতত রাজ্যকে দেখাশোনাই আমার কাজ।’

এদিকে, সন্তান নিয়ে আনন্দের মাঝে মাদক মামলা ছাড়া আরও এক মামলায় জড়িয়েছেন পরীমনি। গত ৬ জুলাই মামলাটি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তাকে মারধর, বোট ক্লাবে ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মামলাটি করেন নাসির। গত ১৮ জুলাই মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তভার দেয় ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।