মিয়ানমারে নতুন ৪ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে রাশিয়া

0
13

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার সঙ্গে ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত ২০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির অধীনে ছয়টি ফাইটার জেট পাওয়ার কথা মিয়ানমারের। ছয়টির মধ্যে দুইটি জেট চলতি বছরের মার্চে ডেলিভারি পেয়েছিল মিয়ানমার। বাকি চারটি শীঘ্রই দেশটির জান্তা সরকারের কাছে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে ইরাবতী।

ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া রাশিয়া শীঘ্রই নতুন সুখোই এসইউ-৩০এসএম জেট ফাইটার সরবরাহ করবে সামরিক সরকারের কাছে। সম্প্রতি দেশটিতে ব্যাপক আকারে হামলা চালাচ্ছে জান্তা সরকার। এতে শিশুসহ অনেক বেসামরিক নিহত এবং অনেক আহত হচ্ছে। নতুন চারটি যুদ্ধ বিমান পেলে সরকারের তাণ্ডব আরও বেড়ে যাবে।

জান্তার মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন মঙ্গলবার বলেছিলেন, অভ্যুত্থান নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এই মাসে রাশিয়া সফরের সময় ইরকুস্টস্ক এভিয়েশন প্ল্যান্টে বিমানের উত্পাদন ও পরীক্ষা ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করেছেন। বিমানগুলো শীঘ্রই পাঠানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।’

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সামরিক হার্ডওয়্যারের পৃষ্ঠপোষক। মিন অং হ্লাইং যে কয়েকটি দেশ পরিদর্শন করতে পারেন তার মধ্যে রাশিয়াও একটি। কারণ গত বছরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি বেসামরিককে হত্যা করেছেন। এ জন্য বেশিরভাগ দেশ তাকে এবং তার শাসনকে এড়িয়ে গেছে।

মিন অং হ্লাইং ক্ষমতা দখলের পর থেকে তিনবার রাশিয়া সফর করেছেন এবং রাশিয়ান অস্ত্রের একজন অনুরাগী হিসেবে সেগুলোর প্রতি দুর্বলতার কথা জানিয়েছেন।

স্টকহোমের ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিটের মতে, মিয়ানমারের কাছে ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২৪৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করেছে রাশিয়া।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী যে হার্ডওয়্যারগুলো কিনেছে তার মধ্যে রয়েছে মিগ-২৯ ফাইটার জেট, ইয়াক-১৩০ কমব্যাট প্রশিক্ষক, এমআই-১৭, এমআই-২৪ এবং এমআই-৩৫ কমব্যাট হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য অস্ত্র।

সম্প্রতি একটি স্কুলে সামরিক সরকারের বিমান হামলায় ১১টি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের মধ্যে কারো কারো বয়স সাত বছরের কম। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর জান্তা সরকারের কাছে নতুন যুদ্ধ বিমান আসার বিষয়টি উদঘাটন হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাশিয়ার তৈরি এমআই-৩৫ হেলিকপ্টার থেকে স্কুলে হামলা চালানো হয়। সরকারের দাবি, এলাকাটিতে বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল বলে হামলাটি চালানো হয়। কিন্তু সরকারের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয়রা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য মতে ২০২২ সালের প্রথম তিন মাসে দক্ষিণ-পূর্ব মায়ানমারের কায়াহ এবং কারেন রাজ্যের গ্রাম এবং একটি শরণার্থী শিবিরে আটটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় নয়জন বেসামরিক লোক নিহত এবং কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছে। এছাড়াও বাড়িঘর এবং ধর্মীয় ভবন ধ্বংস হয়েছে। প্রতিটা হামলার তথ্য বলছে, হামলার সময় এলাকাগুলোতে শুধূ বেসামরিকরাই উপস্থিত ছিল, কোনো যোদ্ধা গোষ্ঠী ছিল না।

রাশিয়া থেকে নতুন করে এসইউ-৩০এম জেট সরবরাহের খবর এমন এক সময় আসে যখন প্রতিরোধ বাহিনীকে দমাতে ক্রমেই বিমান শক্তির ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে সামরিক সরকার। এর প্রধান কারণ, স্থল যুদ্ধে সরকারের সেনারা পদে পদে পরাজয় এবং দলত্যাগের শিকার হচ্ছে। এমনকি পশ্চিম মায়ানমারে আরাকান আর্মির মতো জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিমান হামলা চালাচ্ছে সরকার। উল্টো এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণ করতে লড়াই করছে জান্তা সরকারকে।

শুক্রবার, জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস মিয়ানমারের সমরিক সরকারকে অস্ত্র ও রাজস্ব সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলি মিয়ানমারের শাসনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অপরদিকে রাশিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলি জান্তা সরকারকে সামরিক হার্ডওয়্যার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় শুক্রবার তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাশিয়া যখন সরকারকে ফাইটার জেট এবং সাঁজোয়া যান সরবরাহ করেছিল, তখন চীনও ফাইটার এবং পরিবহন বিমান পাঠিয়েছিল। সার্বিয়ার মতো অন্যান্য দেশ রকেট এবং আর্টিলারি শেল সরবরাহ করেছে, অন্যদিকে ভারত দূরবর্তী বিমান প্রতিরক্ষা স্টেশন সরবরাহ করেছে।