মা দিবস : ফারহানা লেবী

0
66

মা দিবস
ফারহানা লেবী

আজ ফেসবুক খুলতেই
চারিদিকে মা-মা গন্ধ
সবাই মাকে নিয়ে
নানান ধরনের পোস্ট দিয়েছে,
কবিতা -ছড়া -নীতিবাক্য-ছবি-দোয়া,
যে যার মতো ভালোবাসার ছড়াছড়ি
আতুর ঘর থেকে তুলশী তলা
বাদ নেই কিছু, শ্রদ্ধায় গড়াগড়ি!

সকালের এমন সুন্দর-সুন্দর লেখা দেখে
আমারও লিখতে ইচ্ছে হলো
কিন্তু কি লিখবো আমি!
এতো ভালো-ভালো লেখার মাঝে
কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

কেউ-কেউ একই লেখার মাঝে
মায়ের অর্থ হরেক রকম করে বারবার তুলে ধরেছেন
আভিজাত্য ও অভিলাষী ভাষায়
নিখুঁত ও সাবলীল সেসব লেখা
এ অবস্থায়
আমি যা কিছু লেখার চেষ্টা করছি
তা হয় কম হচ্ছে
না হয় নকল!
তাই কিছুই আর লেখা হলোনা!

এবার মা কেমন আছে জানার জন্য
পাশে থাকা মুঠোফোনটা হাতে তুলে নিলাম
মনে পড়লো
মার কাছেতো ফোন নেই
মেয়েদের সাথে মার কথা হবে বলে
ভাই মার থেকে ফোনটা
সেই কবে ছিনিয়ে নিয়েছে,
অবশ্য মাকে ফোনটা আমিই কিনে দিয়েছিলাম
মার সাথে কথা বলে তৃপ্তি মেটাবো
সবসময় মার খোঁজ খবর রাখবো বলে
যা ভাইদের চোখে ছিল বেমানান!

যাক,
আমিও মেয়ের মা
আমার কোন ছেলে নেই
সেই দিক থেকে বিচার করলে
ফোন কেড়ে নেওয়ার ভয়
একদমই নেই!
দুই মেয়ে
বিয়ে হয়েছে
সবাই শ্বশুর বাড়িতে থাকে!

ভাবতে লাগলাম,
আমি হয়তো মায়ের খোঁজ নিতে পারলাম না
তবে আমার মেয়েরা
আমার খোঁজ ঠিকই নেবে!
এমন সময়ে চোখে পড়লো
বড় লেখায়
মেয়ের জামাই পোস্ট করেছে,

আমার ‘মা’ পৃথিবীর সেরা মা!

মেয়েটা সেই পোস্টে আবার
বড় করে লাভ রিয়াক্ট দিয়েছে!
এটা দেখে খুব লোভ হলো
ফেসবুক ঘাঁটতে লাগলাম
না আমার মেয়েরা আমাকে নিয়ে কোনো পোস্ট দেয়নি
চোখে পড়লো,
ভাই ভাবি দুই পাশে দাঁড়িয়ে
মাঝখানে ভাইয়ের শ্বাশুড়িকে নিয়ে ছবি পোস্ট দিয়েছে!

ভাবতে লাগলাম
মনে হয় আমার কথা মেয়েরা ভুলে গেছে,,
তাই আমি নিজেই ফোন করলাম,
হ্যালো,
কেমন আছিস মা?
মেয়ে আমার কথার উত্তর না দিয়ে
কান্না জড়িত কণ্ঠে বলতে লাগলো
তুমি ফোন দিয়েছো কেন?
মা,আমি খুব বিজি
তুমি জানেনা,
আজ মা দিবস?
আমার ননদ এসেছে ‘মা’ উৎসবে
রান্না-বান্না হরেক রকমের আয়োজন,
আমি খুব বিজি!

আমি চুপচাপ কথা গুলো শুনছিলাম
ও থামছেনা, এখনো বলছে

মাগো, তুমি কষ্ট পেওনা
তোমার জামাইকে তোমার কথা বলেছিলাম
সে-তো রেগেমেগে অস্থির
ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে
বলেছে,
আমার মায়ের সাথে পাল্লা?
আমার মায়ের জন্য কিছু করলে
তোমার মায়ের জন্যও তাই করতে হবে ?
এই বাড়ি বসে সব সময় ঐ বাড়ির চিন্তা?
এসব করলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাও
এমন বৌ ঘরে থাকলে
কোন দিনও এই ঘরে শান্তি আসবে না!

প্লিজ মা,
তুমি আমাকে আর ফোন দিও না
মেয়ের কান্না থামানোর জন্য
মিথ্যে হাসির পসরা সাজিয়ে
ওকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম!

বললাম,
শোন মা,
জামাই তো ঠিকই বলেছে
মেয়ের মা সব সময় দূরে থাকতে হয়,
আমি যে মেয়ের মা!

মেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো,
উত্তরে বললো
আমার শ্বাশুড়িও-তো মেয়ের মা?
তোমার ভাইয়ের শ্বাশুড়ি?
সেখানে দেখো,
মামা-মামি দু’জনে মামির মায়ের কাঁধে
হাত রেখে ছবি পোস্ট দিয়েছে!
যত দোষ শুধু তোমার আর আমার বেলায় তাইনা?

মেয়েকে বুঝানোর ভাষা আমার জানা ছিলনা!
শুধু অস্ফুট স্বরে বললাম,
নারে মা
দোষ আমাদেরনা
দোষ ভাগ্যের
মা হতে ভাগ্য লাগে
মা হওয়ার সৌভাগ্য যেমন সকলের থাকেনা
তেমনি উৎস ছাড়া উৎসবও হয়না!!