1. admin@jn24news.com : admin :
  2. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

ভোটের মাঠ থেকে স্বজনদের সরাতে পারেননি আ.লীগের মন্ত্রী-এমপিরা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৩৮ Time View

অনলাইন ডেস্ক : আওয়ামী লীগের এমপি, মন্ত্রীর স্বজনরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এমন নির্দেশনা দিলেও সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন তারা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের আপনজনও রয়েছেন। দলের হয়ে তারা এমপি হলেও দলের নির্দেশনা অমান্য করেই নির্বাচন করেছেন তাদের স্বজনরা।

গত সোমবার প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও তারা প্রত্যাহার করেননি। এমপি-মন্ত্রীর স্বজনরা উল্টো নানা যুক্তি দেখিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। গত মঙ্গলবার তাদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি এমপিদের স্বজন হওয়ায় তারা প্রভাব বিস্তার করছে নির্বাচনের মাঠে। এমন অভিযোগ করছেন তৃণমূল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য প্রার্থীরা।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সারাদেশে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের স্বজনদের উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা গত এক সপ্তাহ ফোনে তাগাদা দেন তাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বিবৃতি দিয়ে সংসদ সদস্যদের স্বজনদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। কিন্তু এই নির্দেশনার কর্ণপাত করছেন না সংসদ সদস্যের স্বজনরা।

আওয়ামী লীগের নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতারা। তৃণমূলের নেতারা বলছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে প্রার্থী হয়েছে সংসদ সদস্যর স্বজনরা। এখনি যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে তাদের কাছ থেকে অনেক নেতাকর্মী উৎসাহ পাবে দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করার। দলের নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় এবং কমান্ড অমান্য করায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যেতে পারে তৃণমূলে।

নির্দেশনা অমান্য করে এখনো যেসব এমপি-মন্ত্রীর স্বজনরা উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী তারা হলেন- পাবনার বেড়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকারের ভাই আব্দুল বাতেন এবং ভাতিজা আব্দুল কাদের সবুজ। চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর বড় ভাইয়ের ছেলের স্ত্রী লাভলী চৈীধুরী, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের শ্যালক মহব্বত আলী, মনোহরগঞ্জে মন্ত্রীর ভাতিজা মো. আমিরুল ইসলাম, নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খানের স্ত্রীর বড় ভাই মো. শরীফুল হক, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খান, চাচাতো ভাই পাভেলুর রহমান খান শফিক, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক চৌধুরী, বগুড়া-১ আসন সারিয়াকান্দিতে সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নানের ছেলে মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, সোনাতলা উপজেলায় সাহাদারা মান্নানের ছোট ভাই মিনহাদুজ্জামান, আলী আফসার মাজহারুল ইসলামের চাচাতো ভাই। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি দ্রোপদী দেবী আগরওয়ালার পুত্রবধূ প্রিয়া আগরওয়ালা। কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের চাচাতো ভাই, টাঙ্গাইল-১ আসনের এমপি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাকের খালাতো ভাই হারুন অর রশীদ ও মামাতো ভাই মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ফুফাতো ভাই মো. ইসরাফিল হোসেন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়ার স্বজন তেঁতুলিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু ও তার ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লবের চাচা আনিস উজ্জামান আনিস।

তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। একজন প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সরে দাঁড়াতে পারবেন। তাই নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সংসদ সদস্যদের স্বজনদের দাবি কারা আসলে প্রার্থী হতে পারবেন এখনো তা পরিষ্কার করেনি আওয়ামী লীগ। তাই কে নির্বাচন করবে আর কে করবে না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না দলটি।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীর স্বজন যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বুধবার ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য যেসময় সীমা দিয়েছিল সেটা শেষ হয়েছে। কিন্তু এমপি-মন্ত্রীর স্বজন চাইলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। এজন্য নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যারা দলের নির্দেশনা মানবে না, বিশৃঙ্খলা করবে, দল সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews