বগুড়ায় এমপি বাবলুর ওপর যুবলীগের হামলা

0
10

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভায় অংশ নিতে যাওয়ার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল করিম বাবলুর ওপর যুবলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার সকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা চলাকালে বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে এমপির ওপর হামলার পরও আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির সভা যথারীতি চলে।

এদিকে হামলার সময় এমপিকে রক্ষা করতে গেলে যুবলীগ নেতাকর্মীরা তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. সেলিম রেজাকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। মাথায় আঘাত পাওয়া রেজাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নু হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সংসদ সদস্য তার ব্যক্তিগত পিস্তল উঁচিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পরে পুলিশ এসে এমপি এবং তার পিএসকে উদ্ধার করে। পিএসকে হাসপাতালে ভর্তির পর সাংসদকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

মাথায় আঘাত পাওয়া এমপির পিএস সেলিম রেজা
মাথায় আঘাত পাওয়া এমপির পিএস সেলিম রেজা

সোহরাব হোসেন ছান্নু আরও বলেন, সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর শ্যালক ও তার (ব্যক্তিগত সহকারী) পিএস রেজা বিভিন্ন প্রকল্প দেয়ার কথা বলে যুবলীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

দীর্ঘদিনেও সেই প্রকল্প না দিয়ে টালবাহানা করছিলেন। বুধবার সকালে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দেয়ার জন্য সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদে আসেন। এ সময় তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) রেজাকে পেয়ে যুবলীগ নেতারা টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হলে আমি থামানোর জন্য এগিয়ে যাই। এ সময় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু তার ব্যক্তিগত পিস্তল বের করে হত্যার উদ্দেশ্যে তাক করেন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও পরিষদের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু বলেন, আমি সংসদ সদস্য হিসেবে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা। বুধবার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদে পৌঁছে সভা কক্ষে প্রবেশের আগে আমি ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু ও উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলমগীরের নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করে। হামলায় আমার ব্যক্তিগত সহকারী রেজা গুরুতর আহত হন। আমি আত্মরক্ষার্থে আমার লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত পিস্তল বের করি।

তবে প্রকল্প দেওয়ার নামে যুবলীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু বলেন, কে কার কাছে টাকা নিয়েছে সে বিষয় নিয়ে তো আমার কাছে অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ ছিল।