1. admin@jn24news.com : admin :
  2. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

দেশের জনগণ আজ ভয়াবহ পরিস্থিতি অতিক্রম করছে: রিজভী

  • Update Time : শনিবার, ৪ মে, ২০২৪
  • ৪৬ Time View

অনলাইন ডেস্ক : আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা বাদে দেশের প্রতিটি জনগণ আজ ভয়াবহ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশের প্রকাশ্য মদদে গত ৭ জানুয়ারি গণবিবর্জিত ডামি নির্বাচনের পর দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এক ব্যক্তির স্বৈরশাসন, শেখ হাসিনার বেপরোয়া উদ্ভ্রান্ত স্বেচ্ছাচারিতা। এক গভীর সংকটে পতিত হয়েছে মা-মাটি-মানুষ। বিনাভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে শেখ হাসিনা সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে ধ্বংস করছে। তাবেদার শেখ হাসিনার স্বেচ্ছাতন্ত্রের মূল উপাদান হচ্ছে সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, লুটপাট, টাকাপাচার আর সর্বক্ষেত্রে অনিয়ম অনাচার।’

স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের ভোটাধিকার আজ বিপন্ন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অন্যায় ও অবিচারের জবাব জনগণ দিতো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। কিন্তু সেটি আজ মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিহ্নিত ভোট ডাকাত শেখ হাসিনার সরকার মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছে। বাংলাদেশে নির্বাচন এখন বিশ্ববাসীর কাছে রীতিমত হাস্যকর কৌতুকে পরিণত হয়েছে। কেবল জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোকেও ‘আমরা আর মামু’দের তামাশায় রূপান্তরিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আসন্ন লোক দেখানো উপজেলা নির্বাচন সর্বাত্মক বর্জনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্র, ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দস্যুদলের কাছে যেমন সাধারণ মানুষের সম্পদ নিরাপদ নয়, তেমনি ভোটডাকাত সরকার কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘আজ লন্ডন থেকে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত এক ভাচুর্য়াল ভাষণে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করুন। ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। জনগণকেও বর্জন করতে উৎসাহিত করুন। গণতন্ত্রের পক্ষ নিন। জনগণের সঙ্গে থাকুন। জনগণকে সঙ্গে রাখুন। আওয়ামী অপশক্তি আপনাকে বা আপনাদেরকে ভয় কিংবা প্রলোভন দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চাইলেও দয়া করে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন কিংবা কথিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ এখন এই মুহূর্তে জরুরি বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দীর্ঘায়িত প্রক্রিয়ায় অংশীদার হওয়ার চেয়ে আপনাদের জন্য জনগণের ভালোবাসায় ধন্য হওয়া অনেক বেশি গৌরবের, অনেক বেশি সম্মানের। শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে দেশনেত্রীর কর্মী হিসেবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন দেশের স্বার্থের সঙ্গে আপোষ করলে স্বাধীনতার ঘোষককে প্রাণ দিতে হতো না। ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়াকে জালিমের বেড়াজালে বন্দি থাকতে হতো না। সুতরাং, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙক্ষীদের প্রতি আমার বিনীত আহবান, তথাকথিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করুন।’

রিজভী বলেন, ‘বর্তমানে শুধু গণতন্ত্র কিংবা মানবাধিকারই নয়, খোদ দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতাই বিপন্ন। বুয়েটে আবরার, মধুখালীতে আরশাদুল আর আশরাফুলের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কিংবা কুকি-চীনের তৎপরতার পরও যদি আমরা পরিনাম বুঝতে ব্যর্থ হই, আমরা যদি এখনই সতর্ক এবং সচেতন না হই, তাহলে সেদিন আর বেশি দুরে নয় যেদিন আমাদেরকে নিজ ভূমিতেই হয়তো ফিলিস্তিনিদের মতো ভাগ্যবরণ করতে হবে। সেই আলামত ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুতরাং, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।’

তারেক রহমানের বক্তব্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘অভিনব ভোট ডাকাতির কারিগর শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া অসম্ভব। এ কারণেই দেশের ৯৫ ভাগ ভোটার ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচন বর্জন করেছে। এখনো সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গণতন্ত্রের প্রতি সংবেদনশীল জনগণ বিশ্বাস করে ক্রীতদাসের পক্ষে কখনোই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এরপরও অধঃপতিত নির্বাচন কমিশন এবার উপজেলা নির্বাচনের নামে প্রহসন শুরু করে দিয়েছে।’

রিজভীর দাবি, ‘আওয়ামী লীগের ইচ্ছের বাইরে নির্বাচন কমিশনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। স্বৈরাচারী হাসিনা দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভঙ্গুর করে দিয়েছে। জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচন, যে কোনো নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিশ্বাস করে কোনোভাবে দলীয় মনোয়ন আদায় করতে পারলেই তাদের বিজয় নিশ্চিত। বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হতে তাদের শুধু কোনো রকমে নির্বাচনের দিনটি পার করার অপেক্ষা মাত্র। সুতরাং, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে চলমান উপজেলা নির্বাচনের নামে প্রহসনে অংশ নেয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলে গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে না। ভোট ডাকাত শেখ হাসিনার প্রহসনের নির্বাচন বিপুলভাবে জন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর জন্য ভোট ডাকাত সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘কখনো নিজ দলের একজনের বিরুদ্ধে আরেকজন ডামি প্রার্থী লেলিয়ে দিয়েছে। কখনো স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চালু করেছে, এখন আবার প্রতীক বাতিল করে দিয়ে নিজেরা নিজেরাই উপজেলা নির্বাচনের নাটক জমানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তবে এসব করে গণতন্ত্রকামী জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি ভোট ডাকাত শেখ হাসিনার পাতা ফাঁদে পা দেবে না। দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ মনে করে নির্বাচনের নামে প্রহসনের অংশীদার না হওয়াই বরং শেখ হাসিনার ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে সর্বোত্তম প্রতিবাদ।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আব্দুল কুদ্দুস, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, তারিকুল আলম তেনজিং, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews