1. admin@jn24news.com : admin :
  2. mail.bizindex@gmail.com : newsroom :
সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

‘দরবেশ বাবা’দের প্রতারকের পাল্লায় পড়ে খুইয়েছেন ২৫ লাখ টাকা

  • Update Time : সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৯৮ Time View

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চমকপ্রদ ও চোখ ঝলসানো বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রলুব্ধ করে হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এই অপরাধ চক্রের লোকজন কখনও কারও বাসায় চাকরি দেওয়ার ছলে সখ্যতা গড়ে তোলে আবার কখনও পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনে আধ্যাত্মিক ও তান্ত্রিক ক্ষমতা বলে বিপদগ্রস্ত মানুষের ভাগ্য পরির্বতনের নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিত।

রাজধানীর এক নারী চিকিৎসক এমন প্রতারকের পাল্লায় পড়ে সবকিছু খুইয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআইডির সাইবার অপরাধে স্থানান্তর হলে তারা প্রতারক চক্রের মূলহোতা আশিকুর রহমানসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. মনিরুজ্জামান ওরফে আদর (৩৭), মো. আশিকুর রহমান (২৫) ফকরুল (২৫) মো. সাদ্দাম (২৬), মো. নিরব, সিহাব (২৩) মো. সাব্বির (১৮) মো. সাগর (৩৩), শাহিন (২৩), মো. কামাল (২৮), মো. আক্তার (৩৩), মো. শরীফ (২১), মো. নীরব (২১), মো. বাবলু (২৪) মো. মিজান (৩২), মো. রাসেল (৩০) মো. নূর হোসেন ওরফে কালু (২৯), মো. সোহেল (২২), মো. নয়ন (২৬), মো. নিরব (৩৬) ও মো. শামীম (১৪)।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে প্রতারণা করত চক্রটি। এই চক্রের সদস্যরা মানুষের ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে প্রতারণা।

তিনি বলেন, প্রতারকরা ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত অথবা অর্থ সম্পদশালী ব্যক্তিদের দারোয়ান বা ড্রাইভারের সঙ্গে সম্পর্ক করে পরিবারের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে এবং পারিবারিক সমস্যাগুলো কৌশলে জেনে নিয়ে বাড়ির মালিক ও স্ত্রীর নম্বর সংগ্রহ করে। তারপর শুরু করে প্রতারণা। স্ত্রীর কাছে স্বামীর বদনাম এবং স্বামীর কাছে স্ত্রীর বদনাম করে কান ভারী করে। তখন উভয়ের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যেকে তাদের সমস্যা নিরসনের জন্য পথ খুঁজতে থাকে। এই সুযোগে উক্ত প্রতারকরা মসজিদে নববীর ইমামের নাম প্রয়োগ করে প্রতারণা করতে থাকেন।

মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, এভাবেই চক্রটি পারিবারিক সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে এক নারী ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। ‘দরবেশ বাবা’ পরিচয়ে কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়। দরবেশ বাবা পরিচয়দানকারী এই চক্রের ১৯ জন সদস্যকে মাগুরা জেলা ও ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রতারণার শিকার নারী পারিবারিক সমস্যা থাকায় মুক্তির পথ খুঁজছিলেন। এ অবস্থায় ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেখে তার চোখ আটকে যায়। বিজ্ঞাপনে একজন সুদর্শন ব্যক্তি দরবেশ বেশধারী নিজেকে সৌদি আরবের মসজিদে নববীর ইমাম পরিচয় দিয়ে বলছেন, তিনি কোরআন হাদিসের আলোকে মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করেন।

বিজ্ঞাপনটি মন কাড়ে ঐ নারী চিকিৎসকের। পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। অপরপ্রান্তে থাকা দরবেশ বাবা বেশধারী ব্যক্তি সুন্দরভাবে কথা বলে তার পারিবারিক সমস্যা শুনতে চান। ভুক্তভোগী চিকিৎসক তার পরিবারের সমস্যার কথা তুলে ধরেন কথিত দরবেশ বাবার কাছে। সমস্যার কথা শুনে দরবেশ তাকে বলেন, ‘মা তোমার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। বাবার ওপর আস্থা রাখ। তোমাকে মা বলে ডাকলাম। আজ থেকে তুমি আমার মেয়ে। তবে কিছু খরচ লাগবে। খরচের কথা কাউকে জানানো যাবে না। জানালে সমস্যার সমাধান তো হবেই না বরং সমস্যা আরও বাড়বে এবং তোমার ছেলে-মেয়ে ও স্বামীর ক্ষতি হবে।’ নারী চিকিৎসক ভণ্ড দরবেশের কথায় মজে যান।

এরপর থেকে বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন সময়ে অলৌকিক সমস্যার কথা বলে প্রলোভন ও ভয়-ভীতির মাধ্যমে মোট ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক চক্র। পরবর্তীতে এমএফএস নম্বরের সূত্র ধরে মাগুরা জেলা থেকে আশিকুর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রের বিভিন্ন টেকনিক্যাল সাপোর্ট, বেনামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম এবং ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়ার কাজ করে সে। পরবর্তীতে আশিকুরের দেওয়া তথ্যমতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে কথিত দরবেশ পরিচয়দানকারী ১৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ২০২০-২১ সাল থেকে তারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। প্রথম দিকে তারা বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতেন। পরবর্তীতে তারা পত্রিকা এবং বিভিন্ন চ্যানেলের পাশাপাশি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে থাকে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তাদের দেয়া মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে সমস্যা সমাধানের নামে ভয়-ভীতি ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে এমএফএস নম্বরে টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি।

আসামিদের নিকট থেকে ৪১টি মোবাইল, বিপুল সংখ্যক সিমকার্ড ও ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews