জানা-অজানা

0
27

জানা-অজানা

ফাররহানা লেবী

কিছু দিন ধরে দেখছি
মধ্যবয়সী মহিলাদের পাগলামো বেড়েছে
পয়তাল্লিশের কোঠায় এসে
তারা ষোড়শী কন্যার বেশে!
লোকে দেখে যা-তা বলছে –
কেউ বলছে ঢং দেখে আর বাঁচিনা
কেউ বলছে নির্লজ্জ বেহায়া
আবার বলছে বুড়ো বয়সে ভীমরতিতে ধরেছে!
তোমরা জানোনা,,
এই বেমানান সাজের পেছনে লুকানো নির্মম সত্য মিশে
ঐ নারীর পাঁজর লেখা কষ্টের ইতিহাসে
তার মনের মাধুরী সাজানো ছিল নানান রঙের বিলাশে
যা এখনও পড়ে আছে অক্ষত স্তুপে!
ছোট বেলায়
যে মেয়েটি পরিবারের অনুশাসন উপেক্ষা করে –
কাউকে ভালোবাসতে সাহস দেখায়নি
অথবা
বয়স কনিষ্ঠতার কারণে –
রঙ মাখার ধারণ বোঝেনি
এরপর একটু একটু করে বেড়ে ওঠা
আর তারপর তো সবটাই ইতিহাস!
শুনেছো-তো মেয়েরা কুড়িতে বুড়ী
তাই দেরি না করে
তড়িঘড়ি বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
বেস, হয়ে গেলো বিয়ে,,
দু-এক বছর পেরোতে না পেরোতে সন্তানের মা
স্বামী সন্তান সংসার শ্বশুর শ্বাশুড়ি
সবমিলিয়ে জীবনের মহাপরিক্রমা!
ব্যস্ত সংসারে ব্যস্ত জীবন –
স্বামী নামের ব্যস্ত যান্ত্রিক মানুষটির মস্ত সব হুকুমের তামিল
নিজের থেকে বয়সে ছোট–বড়ো ননদ–দেবারের ন্যকামো সব আদর–আবদার পূরণ
তারপর, ছেড়ে চলে আসা মা-বাবা,
ভাই-বোনদের জন্যও দুঃচিন্তার কমতি কম নয়!
জীবন চলে এক্কাগাড়ির মত হেলেদুলে
তারপর আর রঙ মাখার সুযোগ হয়ে ওঠেনা
হয়তো মানেই নেই, মনের ডাব্বায় এতো রঙ ছিল!
বহুদিন পর এসে ক্লান্ত শরীর বার্ধক্যে লেলিয়ে পড়েছে
ঠিক তখন,
হঠাৎ বেখেয়ালি হিসাব মিলাতে গিয়ে মনে পড়ে যায়
ভুলে যাওয়া বাক্সবন্দি সাজানো রঙের কথা!
ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে
জমাট বেঁধেছে সমস্ত রঙ,
এই জমাট বাঁধা সস্তা রঙের সস্তা হিসাব কসতে গিয়ে
নিজেকেই ফাঁকি দেওয়া!!
এই-আর-কী,
আবেগে আপ্লূত হয়ে
ফেসবুকে কিছু ঠুনকো কথা তুলে ধরা
আর নিজেকে বেমানান সাজে সাজানো,,
কেউ বোঝেনা মনের এই যন্ত্রণার কথা!
তারপরও অভাগীর মনে সাদ জাগে
গোছালো চুলের ছন্দপতন হোক
ফেলে আাসা অগোছালো বাসনা রাতের গহীনে
ছেপে যাক কারো মুখ
সর্বনাসের লাল-লাল রঙে
কপালের ল্যাপটানো ফোটা সাক্ষী হোক
সেই সব গুপ্ত রসদের
বাতাসে ভাসুক ভারি নিশ্বাসের প্রভা
শরীর হোক নিরব নিস্তেজ
তারুণ্যের জমাট বাধা রঙে!!