আলু রপ্তানির বাধা ক্ষতিকর জীবাণু বড় বাধা বলছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

0
20

জেএন ২৪ নিউজ ডেস্ক: আলু রপ্তানিতে ক্ষতিকর জীবাণু বড় বাধা বলে জানিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকার। তিনি বলেন, ‘আলুতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকায় রপ্তানি করা যাচ্ছে না।’

রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) কার্নিভাল ও হারমোনি হলে ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল ল্যাব এক্সপো ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

আব্দুল কাইউম সরকার বলেছেন, আলু চাষের ক্ষেত্রে মাটিতে কিছু সমস্যা আছে। এ জন্য উন্নত জাতের আলুর বীজ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। ‘আমাদের দেশের মানুষ আলু কাঁচা খাচ্ছে না। রান্না করে খাওয়ার পর কোনো ধরনের জীবাণু থাকছে না। তবে রপ্তানির সময় তারা পরীক্ষা করে দেখেছে, আলুতে ক্ষতিকর জীবাণু রয়েছে। এ কারণে আলু রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের এক আলোচনায় আলু রপ্তানির বিষয়টি উঠে আসে বলেও জানান কাইউম সরকার।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, ‘চিংড়ি রপ্তানিতে একসময় সমস্যা ছিল, বর্তমানে তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। খাদ্যদ্রব্য আপনার জন্য ক্ষতিকর না নিরাপদ, তা নিশ্চিতের জন্য সার্টিফিকেশনের প্রয়োজন হয়। আর তা একমাত্র ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়।’

রবিবার থেকে ফুড অ্যান্ড কেমিক্যাল ল্যাব এক্সপো শুরু হবে। বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের সঙ্গে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জানিয়ে চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রযুক্তি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সর্বোত্তম চর্চা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলো জানার একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম হবে এই প্রদর্শনী।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, দেশের খাদ্য ও রাসায়নিক পণ্যের পরীক্ষাগার নেটওয়ার্কের সক্ষমতা তুলে ধরা, তাদের ওপর মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এ প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।

আব্দুল কাইউম বলেন, ‘দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে ৩৮টি সরকারি-বেসরকারি পরীক্ষাগার, ছয়টি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। খাদ্য পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বেগবান করতে সনদপ্রাপ্ত পরীক্ষাগারগুলোর ভূমিকা নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক আলোচনা পর্ব থাকবে প্রদর্শনীস্থলে।’

প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আব্দুল কাইউম বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হবে সরকারি-বেসরকারি পরীক্ষাগারগুলোর একটি কার্যক্রম নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করা। যাতে তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভোক্তাদের জন্য খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।’

বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের পরিচালক মাইকেল জে পার বলেন, কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বেগবান করতে পরীক্ষাগার গুলো যাতে নিজেদের সক্ষমতা ও ভূমিকা বাড়াতে পারে সেজন্য তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন। পরীক্ষাগারগুলোর সেবা ও সক্ষমতা সম্পর্কে সেবা গ্রহীতারা যথেষ্ট না জানার কারণে অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পরীক্ষাগারগুলোর সদ্ব্যবহার হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এ প্রদর্শনী সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পরীক্ষাগারের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে। পাশাপাশি বেসরকারি পরীক্ষাগারগুলোর ওপর আস্থা – বিশ্বাস বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের পরিচালক মাইকেল জে পার, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (ফুড কনজাম্পশন অ্যান্ড কনজ্যুমার রাইটস) মো. রেজাউল করিম এবং বাংলাদেশ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রকল্পের কারিগরি পরামর্শক কামরুন নাহার।